করোনায় তছনছ ভারতের মন্ত্রিসভা, শপথ নিলেন নতুন ৪৩ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- করোনা মহামারি মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে মন্ত্রিসভায় রদবদল এনেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় শপথ নিয়েছেন ভারতের নতুন ৪৩ জন মন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাদের শপথ পড়ানো হয়। এদের মধ্যে নতুন মুখ রয়েছেন ৩৬ জন। অন্যরা পদোন্নতি পেয়েছেন।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিসভায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ধরনের রদবদল করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া রদবদলের আগে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীসহ কমপক্ষে ১২ জন পদত্যাগ করেছেন।

 

ভারতের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৫২ থেকে বাড়িয়ে ৭৭ করা হয়েছে। নতুন ৩৬ জন ছাড়াও প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন সাতজন। দেশটির মন্ত্রিসভায় এমন এক সময় এই রদবদল আনা হলো যখন উত্তরপ্রদেশের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে।

 

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে দেশটিতে সরকারের তুমুল সমালোচনার মাঝে বুধবার নতুন এই মন্ত্রিসভার ঘোষণা এল। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ছোট-বড় সব শহর ও একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ছে।

 

মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির তুলনায় দেশটিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রভাবশালী তিন— তথ্যপ্রযুক্তি ও আইনমন্ত্রী রবী শঙ্কর প্রসাদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভেদকারের পদত্যাগ।

 

মহামারিতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বরূপ উন্মোচিত হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। এছাড়া নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান যে কয়েকজন মুখপাত্র ছিলেন; তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জাভেদকার। সবকিছু ছাপিয়ে জাভেদকার ও রবি শঙ্কর প্রসাদের পদত্যাগ অনেকের কাছে বিস্ময় জাগানিয়া হিসেবে এসেছে।

 

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির সাবেক সরকারে যে কয়েকজন মন্ত্রী ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম বিজেপির প্রবীণ নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ, জাভেদকার। তবে বুধবার সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত ছিলেন পদত্যাগকারী এই তিন হেভিওয়েট মন্ত্রী।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, মোদির নতুন মন্ত্রিসভা হয়েছে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, অঞ্চল, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় ভারসাম্যের ভিত্তিতে। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে ১৪ জনের বয়স ৫০ বছরের নিচে। নতুন সদস্যদের মধ্যে অন্তত চারজন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং ১৮ জনের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

 

এছাড়া ভিন্ন ভিন্ন পেশাজীবীদের উপযুক্ত সংমিশ্রণে হয়েছে এবারের মন্ত্রিসভা। যেখানে অন্তত ১৩ জন আইনজীবী, ছয়জন চিকিৎসক, পাঁচজন প্রকৌশলী, সাতজন সরকারি চাকরিজীবী স্থান পেয়েছেন। এছাড়া সাতজনের বিভিন্ন গবেষণায় ডিগ্রি এবং অন্তত তিনজনের ব্যবসায়িক ডিগ্রি রয়েছে। নয়টি রাজ্য থেকে উঠে আসা ১১ জন নারী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

 

মোদির নতুন মন্ত্রিসভায় রেকর্ড ১২ জন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতা ঠাঁই পেয়েছেন। বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক, রাজস্থান ও তামিলনাড়ু থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্য থেকে হয়েছেন তিনজন মন্ত্রী। নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *