বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর জামিন স্থগিতই থাকবে

নজর২৪, ঢাকা- নাশকতার দুই মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিতই থাকবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে। তবে, শোন অ্যারেস্টের দেখানো মামলাটিতে দ্রুত চার্জশিট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

 

ওই দুই মামলায় আসলাম চৌধুরীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৬ জুন আপিল বিভাগ স্থগিত করেন। তাঁর জামিন ২০ জুন পর্যন্ত স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলা হয়। একই সঙ্গে ২০ জুন শুনানির তারিখ রাখেন আপিল বিভাগ। তার ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল আজ রোববার আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে।

 

শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন। আদেশে আদালত বলেছেন, (জামিনে) স্থগিতাদেশ চলমান থাকবে।

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আসলামের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এই দুই মামলায় গত ৩০ মে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ তাকে জামিন দেন।

 

আসলাম চৌধুরীর আইনজীবীর তথ্যমতে, অন্য মামলায় ২০১৬ সাল থেকে আসলাম চৌধুরী কারাগারে আছেন। নাশকতার অভিযোগে ২০১৩ সালে করা ওই দুই মামলায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

ভারতে গিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক কর্মকর্তার সঙ্গে ‘সরকার উৎখাতের’ জন্য আলোচনা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে দিল্লি ও আগ্রার তাজমহল এলাকায় ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান লিকুদপার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা-সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি প্রকাশিত হলে দেশ-বিদেশে তোলপাড় হয়।

 

২০১৬ সালের ১৫ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে আসলাম চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. আসাদুজ্জামান মিয়াকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর)। পরে তাদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরদিন ১৬ মে ৫৪ ধারায় (মোসাদ কানেকশনে সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের সন্দেহ) গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের দুইজনের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর ওই বছরের ২৬ মে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দায়ের করা হয় রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাটি। দণ্ডবিধির ১২০ (বি), ১২১ (৩) ও ১২৪ (এ) ধারায় ডিবির ইন্সপেক্টর গোলাম রাব্বানী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *