নজর২৪ ডেস্ক- ‘সম্প্রতি ঢাকা বোট ক্লাবে যে ঘটনা ঘটেছে তা অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। আমরা এর পুনরাবৃত্তি চাই না। মামলার পর দ্রুত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্ত শেষে দৃষ্টান্তমূলক আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোনো পর্যায়ের নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে পুলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। অনেক ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তড়িৎ অ্যাকশনে যাচ্ছে পুলিশ। যার যে পরিচয় হোক বা যত ক্ষমতাধর হোক, অপরাধ করলে ছাড় নয়।’
সোমবার রাতে পরীমণির ঘটনায় দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি ড. বেনজীর আহমেদ এসব কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, অভিনেত্রী পরীমণির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করবে পুলিশ। তদন্তে পুরো বিষয়টি উঠে আসবে। এছাড়া ক্লাবের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এরই মধ্যে নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিক অমি ও শাহ আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্লাবের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাবে- এটা মেনে নেওয়া হবে না। ঢাকার সভ্রান্ত পরিবারের অনেকে এখন ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য। এখন ক্লাবের সদস্য সংখ্যা দুই হাজারের কাছাকাছি। দিন দিন সদস্য সংখ্যা বাড়ছে। ঢাকা বোট ক্লাব এরই মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক আরও বলেন, পরীমণির বিষয়টি চারদিন আগে জানলে তখনই পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করত। মামলার জন্য তাকে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পরে আর তিনি যোগাযোগ করেননি। থানা পুলিশও পরীমণির সঙ্গে পরদিন আর কথা বলেনি। অপরাধ দমনের পাশাপাশি যেকোনো নাগরিকের প্রাইভেসিকেও গুরুত্ব দিতে হয়। অনেক সময় আগ বাড়িয়ে কিছু করতে গেলেও প্রশ্ন উঠে পারে- কেন আমরা এত আগ্রহী।
পুলিশ মহাপরিদর্শক আরও বলেন, পুলিশের অনেক পর্যায়ে নারীর প্রতি সংবেদনশীল সদস্যের সংখ্যা বেড়েছে। পরীমণি আমাকে বিষয়টি জানাতেও পারতেন। ফোন বা খুদে বার্তা পাঠালেও বিষয়টি জানতে পারতাম। আমাদের গুলশানের ডিসি ছিলেন। ডিএমপি কমিশনার ছিলেন। তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেননি পরীমণি।
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই পুলিশ পরীমণির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মামলা নেয়। আসামিরা যাতে পালাতে না পারে সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি। পালিয়ে গেলে আবার অন্য রকম বিতর্ক হত। এই বার্তা আমরা সবাইকে দিতে চাই, পরিচয় যা হোক আর যত ক্ষমতাধর হোক অপরাধ করলে ছাড় নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, সমাজে যারা পরিচিত এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে নানা কৌশলে ছবি তুলে তা নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে একটি দুষ্ট চক্র। কে কার সঙ্গে ছবি তুলল এটা সবসময় দেখা সম্ভব হয় না।
উল্লেখ্য, ১৩ জুন (রোববার) রাত ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে পরীমণি জানান, তাকে হত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এ দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের কাছে ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে উত্তরা বোট ক্লাবের সদস্য নাসির ইউ মাহমুদ ও ব্যবসায়ী অমিসহ অচেনা কয়েকজনের কথা উল্লেখ করেন পরী।
এই ঘটনায় সোমবার (১৪ জুন) সকালে সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। সেই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ।
গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয় উত্তরা সেক্টর-১ নম্বরের একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ। বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অমিসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন নারীকে। জব্দ করা হয় দেশি-বিদেশ মদসহ মাদকদ্রব্য।
পুলিশ বলছে, এই বাসায় প্রতিদিন ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন নাসির। উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করানো হতো। বাড়িটিতে যাতায়াত ছিল অনেকের।
