বিনোদন ডেস্ক- গত ৯ জুন উত্তরা বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির ইউ মাহমুদ ও ব্যবসায়ী অমি পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যা করার চেষ্টা করে। ১৩ জুন পরীমণি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠি লেখেন।
পরে সেদিন রাত ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করেন। ১৪ জুন তিনি সাভার থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অমি, নাসিরসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তর টিভির ‘একাত্তর জার্নাল’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান। উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে মিশা সওদাগর বলেন, পরীমণি তার ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু সমিতিকে জানাননি। ফলে ঘটনার বিষয়ে তিনি তেমন কিছু জানেন না।
অপরদিকে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘পরীমণি আমাদের কিছু জানাননি। ফলে আমরা কিন্তু গায়ে পড়ে কোথাও যাই না। আমাদের জানালে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।’
তিনি পরীমণির ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘পরীমণি অহরহ রাত ১২টার পর বের হন। এমন অপ্রীতিকর ঘটনা তিনি মাঝে মাঝেই ঘটান। পরীমণির জন্য এটা নরমাল বিষয়। কিন্তু এই ব্যাপারটা অনেক বেশি সিরিয়াস হয়েছে। এই সিরিয়াস ব্যাপার তার উচিত ছিল আমাদের জানানো। আমাদের জানালে ব্যবস্থা নিতাম। আমাদের কিছু জানায়নি। সে নিজে নিজেই প্রেস কনফারেন্স করেছে। আমরা যেহেতু জানি না তাই ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তবে আমরা পরীমণির সঙ্গেই আছি।’
সোহানের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থাপক মিথিলা ফারজানা। ড. নাসির উদ্দিন সোহানের কথার প্রতিবাদ জানিয়ে মন্তব্য করেন।
মিথিলা ফারজানা বলেন, ‘পরীমণি বলেছিলেন, নায়িকা হওয়ার কারণে মানুষ আমাদের একটা বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন। আপনারা তো নিজেরাই তাকে অন্য চোখে দেখেন। তার সম্পর্কে ন্যূনতম শ্রদ্ধাটুকুও আপনাদের মাঝে নেই। আপনারাই যখন সম্মান দিতে জানেন না তখন বাইরের মানুষ কীভাবে সম্মান দেবে।’
ড. নাসির বলেন, ‘তাহলে ওনার বক্তব্য থেকে মানুষ কী বার্তা পাচ্ছে? জবাবে মিথিলা ফারজানা বলেন, ‘এই বার্তায় পাচ্ছে চলচ্চিত্রের মানুষ নিজেরাই নিজেদের সম্মান দিতে জানেন না।’
উল্লেখ্য, ১৩ জুন (রোববার) রাত ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়ে পরীমণি জানান, তাকে হত্যা ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এ দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বনানীর বাসায় সাংবাদিকদের কাছে ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাসির ইউ মাহমুদ ও অমিসহ অচেনা কয়েকজনের কথা উল্লেখ করেন পরী।
এই ঘটনায় সোমবার (১৪ জুন) সকালে সাভার থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। সেই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ।
গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয় উত্তরা সেক্টর-১ নম্বরের একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ। বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অমিসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন নারীকে। জব্দ করা হয় দেশি-বিদেশ মদসহ মাদকদ্রব্য।
পুলিশ বলছে, এই বাসায় প্রতিদিন ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন নাসির। উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করানো হতো। বাড়িটিতে যাতায়াত ছিল অনেকের।
