করোনার উৎপত্তি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ বাইডেনের, প্রশ্নের মুখে পড়বে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মহামারি করোনার তাণ্ডবে টালমাটাল বিশ্ব। অথচ এই করোনার উৎপত্তি ঠিক কোথায়, সে ধোঁয়াশা রয়েছে এখনও। আর এ নিয়ে এবার তদন্তের কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

 

জানা গেছে, বিশ্বে চলমান মহামারির জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাইডেন। বিস্তারিত তদন্তে অংশ নেওয়ার জন্য চীনের ওপর চাপ দেওয়ার কথাও বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

স্থানীয় সময় ২৫ মে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, চলতি মাসের শুরুতে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন তিনি পেয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বাড়তি প্রয়াস চালিয়ে এ ভাইরাস কীভাবে প্রথম মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে, সে বিষয়ে একটি নিশ্চিত সিদ্ধান্তে আসার জন্য প্রেসিডেন্ট বাইডেন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নিবিড় তদন্তের আওতায় চীনকে এ নিয়ে প্রশ্ন করার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন তিনি।

 

২০১৯ সালের শেষ দিকে কোভিড-১৯-এর প্রথম সংক্রমণ ঘটে চীনের উহানে। এরপর সংক্রমণ বিস্তৃত হয় সারা বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, করোনায় এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১৬ কোটি ৮২ লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ। করোনায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

 

করোনার উৎপত্তি নিয়ে এখনো তেমন কিছু জানা যায়নি। কখনো বলা হয়েছে, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রথম সংক্রমিত হয়েছে। আবার উহানের ল্যাব থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে বলেও প্রচার-প্রচারণা আছে। তবে এ ভাইরাস ঠিক কীভাবে ছড়িয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত তা প্রমাণ করা যায়নি।

 

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণের জন্য চীনই দায়ী। তাই চীনকে এই মহামারির দায় নিতে হবে।

 

চীনের বিরুদ্ধে কেউ কেউ অভিযোগ করে থাকেন যে দেশটি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে করোনার সংক্রমণ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল। এমন সব তত্ত্ব ও অভিযোগের বিষয় চীন সব সময় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *