২ সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন সেই প্রবাসীর স্ত্রী!

প্রবাসের কথা ডেস্ক- মালয়েশিয়া প্রবাসী মৃত লিয়াকতের পরিবার এখন অভাব অনটনে দিন পার করছে। পরিবারের একমাত্র আয় রোজগারের সম্বল প্রবাসী লিয়াকত আলী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী ২ সন্তান নিয়ে তাদের খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে।

 

পরিবারের দাবি, সরকার যদি তাদের একটু সহযোগিতা করে তাদের বাংলাদেশের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে যে ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেয়ার কথা রয়েছে। এ অনুদান পেলে কিছুটা হলেও চলতে পারবে ২ সন্তান নিয়ে। এমনটাই জানিয়েছেন মৃত লিয়াকত আলীর স্ত্রী সুমি আক্তার লাকী।

 

দীর্ঘ ৮ বছর বৈধ অবস্থায় মালয়েশিয়ায় ছিলেন গাজীপুরের লিয়াকত আলী। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করা হয় দেশটির ইপু জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলেন লাঞ্চে পানি জমেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসী লিয়াকত আলী গত ১৯ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

 

দূতাবাসের সহায়তায় সম্পূর্ণ সরকারি খরচে লিয়াকতের লাশ দেশে পৌঁছায় ৫৫ দিন পরে। দীর্ঘ সময় পরে প্রবাসী লিয়াকত আলীর লাশ পরিবারের কাছে পৌঁছালে আত্মীয়-স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়ে।

 

সরকারি খরচে লিয়াকত আলীর লাশ দেশে আসলেও অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবারটি। ৫৮ দিন পরে হলেও লিয়াকত আলীর লাশ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

এদিকে লিয়াকত আলীর মৃত্যুর পরে হাসপাতালে ১৩ হাজার রিঙ্গিত (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা) বকেয়া ছিল। হাসপাতালের বিল এবং লাশ পাঠানো খরচসহ প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়, যে টাকা লিয়াকত আলীর দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

এমতাবস্থায় দূতাবাস থেকে কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হাসপাতালের বিল ও লাশ পাঠানোর খরচ দিতে অস্বীকার করে। ফলে লিয়াকত আলীর লাশ দীর্ঘ সময় হাসপাতালের হিমাগারে পড়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *