বায়তুল মোকাররমে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হলেন মুসল্লিরা

নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামি দলগুলোর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি না থাকলেও বায়তুল মোকাররম এলাকায় আজ শুক্রবার সকাল থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।

 

জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের একাংশ মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেলেও আরেকটি অংশ উত্তর গেটে অবস্থান নেন। এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁদের ছবি তুলতে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হন সেখানে অবস্থানকারীরা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, জুমার নামাজ শেষে মোনাজাতের পর মুসল্লিদের অনেকেই মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। তবে দেড় থেকে দেড় থেকে দুই শতাধিক মুসল্লি উত্তর ফটকে সিঁড়ির ওপর অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের অবস্থান ছিল মসজিদের উত্তর ফটকসংলগ্ন সড়কে।

 

মুসল্লিরা স্লোগান না দিলেও খানিক সময় সেখানে তাঁদের অবস্থান করার কারণে সাংবাদিকদের অনেকেই তাঁদের ছবি তোলেন এবং ভিডিও করতে থাকেন। এ সময় মুসল্লিরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে ছবি ও ভিডিও করার কারণ জানতে চান। তখন সাংবাদিকদের কেউ কেউ পেশাগত কারণে ছবি তোলার বিষয়টি উল্লেখ করলে মুসল্লিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

 

এ সময় মুসল্লিদের অনেকেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, তারা দেখে একটা, লেখে আরেকটা। ক্যামেরা দিয়ে নজরদারির কারণে তারা ঠিকমতো নামাজ পড়তে পারেননি। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের অনেকে দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান ও রিপোর্টারকে খুঁজতে থাকেন।

 

এ সময় সাংবাদিকদের সত্য ও ন্যায়ের পথে আসারও পরামর্শ দেন মুসল্লিদের কেউ কেউ। এসময় মসজিদের সামনে কিছু মুসল্লির জমায়েত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

 

গত বুধবার দেশের সকল মসজিদে জুমা ও ওয়াক্তের নামাজ এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আগে ও পরে গণজমায়েত নিরুৎসাহিত করে তিন দফা নির্দেশনা জারি করে সরকার।

 

সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জুমার নামাজ শুরুর আগে থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন ছিল। এদিন সকাল ১০টা থেকেই পুরানা পল্টন মোড়, জিরো পয়েন্ট, দৈনিক বাংলা মোড়, বায়তুল মোকাররমের উত্তর ও দক্ষিণ গেটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

 

পুলিশের কঠোর অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছাড়াই জুমার নামাজ শেষে কর্মসূচির নামের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন হেফাজতকর্মীরা। এ জন্য আজও সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। তবে কোনও ধরনের খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। মুসুল্লিরা নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকা ছেড়ে গেছেন।

 

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামি দলের নেতা-কর্মীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিল।

 

২ এপ্রিল নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী কর্মসূচি ও হরতালে সারা দেশে হেফাজত কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা।

 

এর আগের শুক্রবার ২৬ মার্চ জুমার নামাজ শেষে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীদের সংঘর্ষ চলে।

 

এ সময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

১৯ মার্চ বায়তুল মোকাররম এলাকায় সহিংসতা ছড়ায় হেফাজতে ইসলাম ও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা। মোদির সফর প্রতিহত করতে জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ করে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *