ঢাবিতে দফায় দফায় সাংবাদিকদের উপর ছাত্রলীগের হামলা

নজর২৪ ডেস্ক- পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিক।

 

বৃহস্পতিবার দুই দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আবিদ হাসান রাসেল ও প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আসিফ হিমাদ্রি গুরুতরভাবে আহত হন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশের জনগণ’ ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় জেয়াফতের আয়োজন করে একটি সংগঠন। বিকেল ৪টায় জেয়াফত অনুষ্ঠানের আগে একই স্থানে নেতা-কর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি উৎফল বিশ্বাস।

 

জেয়াফত অনুষ্ঠান আয়োজনের আগমুহুর্তে আয়োজনকারীদের উপর হামলা চালায় উৎফল বিশ্বাসের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সেখানে রাসেলের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এমনটাই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

হামলার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম রিয়াদ, সার্জেন্ট জহুরুল হক ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তানসেন শেখ, বিজয় একাত্তর হলের দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তামিম প্রমুখকে দেখা গেছে।

 

হামলার শিকার আবিদ হাসান রাসেল বলেন, টিএসসিতে একটি সংগঠনের একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে ছাত্রলীগের হঠাৎ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে তাদেরকে মারধরে করে তাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। সেখানে আমি ছবি তুলতে গেলে তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করে।

 

তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তারা তা না শুনে আমাকে মারধর করতে থাকে। আমি আমার প্রেস কার্ড বের করে দেখালে তারা আমার থেকে তা ছিনিয়ে নেয়। তারা আমার মুঠোফোনটিও নিয়ে যায়।

 

এদিকে এদিন সন্ধ্যায় মোদির আগমনবিরোধী মিছিল শুরু করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। জোটের মিছিল শেষে টিএসসি থেকে জোটের নেতা-কর্মীরা ভিসি চত্বর এলাকার দিকে যেতে থাকলে সেখানে তাদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় হামলায় ‍গুরুতর আহত হন প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আসিফ হিমাদ্রি।

 

আসিফ বলেন, আমি সংবাদ সংগ্রহ করতে ভিসি চত্বরের দিকে গেলে সেখানে তারা আমার উপর হামলা করে। আমি আমার মোবাইল ফোনও বের করিনি। ভিসি চত্বর থেকে ১০ থেকে ১৫ জন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী আমাকে টানা-হেচড়া করতে করতে মল চত্ত্বরের অন্ধকার দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে মারতে মারতে মাথা ফাটিয়ে ফেলে। তারা আমার সারা শরীরে আঘাত করেছে।

 

এদিকে সন্ধ্যায় জোটের মিছিল শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রোকেয়া হলের সামনে সাংবাদিকদের হেনস্তা করে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগরের নেতা-কর্মীরা।

 

হেনস্তার বিষয়ে ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক আব্দুল গনি বলেন, প্রোগ্রাম শেষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের দিকে তেড়ে আসে। তারা আমাদের কাছ থেকে জবাবদিহিতা চায়। তারা জানতে চায়, আমরা কেন ছবি তুলি। আমাদের অনুমতি কে দিয়েছে। পরে সেখান থেকে আমরা চলে আসি।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

 

হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত না মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে কমর্সূচি পালন করেছি। শুনেছি ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *