নির্বাচনে অনিয়মঃ ভূঞাপুরসহ ৩ পৌরসভার ফলাফল স্থগিত ঘোষণা

নজর২৪, ঢাকা- চলমান পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে ভোটের ফলাফল বাতিলসহ অনিয়মকারীদের শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

 

ইসি কর্মকর্তারা জানায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে কয়েকটি পৌরসভায় বেশ অনিয়ম হয়েছে। সামনের দু’টি ধাপে যেন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলোকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 

কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত নলসিটি, ভূঞাপুর ও কলারোয়া পৌরসভার ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বাতিল হতে পারে পুরো ভোট। এজন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, পৌরসভার নির্বাচনে তৃতীয় ধাপে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামান্য বিঘ্ন ঘটেছে। তিনটা জায়গায় আমরা পত্রিকার নিউজ দেখে রিটার্নিং অফিসারকে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। কেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটেছে, কারা ঘটিয়েছে, কেন ভঙ্গ হলো, কারা দায়ী; এই বিষয়গুলো উপর তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। এই তিনটার বেসরকারি ফলাফলও আমরা স্থগিত করেছি।

 

প্রতিবেদন পাওয়ার পর যদি দেখা যায় যে অপরাধ ঘটেছে, তাহলে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা আমরা নেব। এক্ষেত্রে ফৌজদারী বা নির্বাচনী আইনে মামলা দায়ের করবো। এটা আমরা করতে চাই, যাতে একটা ম্যাসেজ যায় যে, কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলায় কমিশন কঠোরভাবে এগুলো দমন করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেবে।

 

ইসি সূত্র জানিয়েছে, বিগত তিন ধাপের পৌরসভার ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কমিশন। নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় পৌরসভা নির্বাচনের অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসাবে ঝালকাঠির নলছিটি, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও সাতক্ষীরার কলারোয়ার বেসরকারি ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে।

 

পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন পৌরসভার অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদগুলো সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসারদের প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের প্রতিবেদনের পর ওই পৌরসভার ফলাফলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

 

যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক চাপে রিটার্নিং অফিসারদের পক্ষে সঠিক প্রতিবেদন না আসার সম্ভাবনা বেশি। অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এবার পাঁচ ধাপে পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ২৪টি, ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি, গত ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে ৬২টি পৌরসভায় ভোট হয়। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপে ৫৬টি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩১টি পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *