নজর২৪ ডেস্ক- কাতারভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আল জাজিরায় ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনকে ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনা সদর দপ্তর।
মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) রাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খানের স্বাক্ষর করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এটি এক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর একটি সিক্যুয়েল, যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিবেদনে মন্তব্যকারীরা হলেন ডেভিড বার্গম্যান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে একজন অভিযুক্ত; প্রতিবেদনে সামি নামে চিত্রায়িত জুলকারনাইন সায়ের খান সাবেক ক্যাডেট এবং মাদকাসক্তির জন্য তাকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে বহিষ্কৃত এবং অখ্যাত নেত্র নিউজের চিফ এডিটর তানসিম খলিল। অসৎ উদ্দেশ্য এবং কায়েমী স্বার্থের এসব ব্যক্তিদের যোগসূত্র তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।’
‘আল জাজিরার মতো একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কীভাবে অতীত অপরাধ কর্মকাণ্ড এবং দূরভিসন্ধিমূলক গোষ্ঠীর ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলো এটা স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন দাপ্তরিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টস একত্রিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন অসংযুক্ত ইভেন্টস ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ভয়েস দ্বারা একত্রিত করা হয়েছে’─বলা হয়েছে আইএসপিআরের বিবৃতিতে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ইসরায়েল থেকে মোবাইল ফোন নজরদারির প্রযুক্তি কেনার মিথ্যা তথ্যভিত্তিক রিপোর্টকে নিন্দা জানিয়ে এতে বলা হয়েছে, ‘আসল তথ্য হলো─জাতিসংঘে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটের জন্য হাঙ্গেরি থেকে ওই প্রযুক্তি কেনা হয়। ওসব যন্ত্রপাতির কোথাও ইসরাইলে তৈরি এমন কথা লেখা নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকায় ইসরায়েল থেকে সামরিক সহযোগিতা অথবা কেনার কোনো সুযোগ নেই।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওই প্রতিবেদনটিকে সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।’
‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বর্তমান চেইন অব কমান্ডের অধীন সর্বোচ্চ সুশৃঙ্খল এবং সংবিধান এবং সরকারের প্রতি অনুগত রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশ ও সরকারের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ছিল এবং ভবিষ্যতেও শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রিয় মাতৃভূমি ও জাতি গঠনে অবদান রাখবে।’
