বাদাম চাষ শিখতে বিদেশ যাবেন ১১৬ কর্মকর্তা, ব্যয় হবে ৭ কোটি

নজর২৪ ডেস্ক- করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে অর্থ বাঁচাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন প্রকল্পের অহেতুক অর্থ খরচ কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন। কিন্তু এসব পরামর্শ ও নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিদেশ সফরের আয়োজন লেগেই আছে।

 

উন্নয়ন প্রকল্প মানেই প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক। সম্প্রতি একনেকে অনুমোদনের জন্য তৈরি ‘কাজু বাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পেও এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

এবার কাজু বাদাম ও কফি চাষ দেখতে বিদেশ যাবেন ১১৬ কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৭ ব্যাচে (প্রতি ব্যাচে ৮ জন করে) ৫৬ জন প্রশিক্ষণ নিতে যাবেন। এক্সপোজার ভিজিট করবেন পাঁচ ব্যাচে (প্রতি ব্যাচে ১০ জন) ৫০ জন। জনপ্রতি চার লাখ ৪০ হাজার করে এসব সফরে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

 

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘প্রকল্প প্রস্তাবে বৈদেশিক প্রশিক্ষণে আরও অনেক বেশি ব্যয় ধরা ছিল। কিন্তু আমরা অনেক কমিয়ে দিয়েছি। তবে এক্সপোজার ভিজিট বিদেশে নাও হতে পারে।’

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড কাজু বাদাম উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করছে। আমরা যদি সেখানে গিয়ে চারা রোপন থেকে শুরু করে বাদাম, সংগ্রহের পর তা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে পারি তাহলে দেশে কাজু বাদাম ও কফি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। সেজন্যই কিছু বিদেশ সফর রাখা হয়েছে। এখনতো পাহাড়ি অঞ্চলে কাজু বাদাম ও কফি চাষ হচ্ছে। কিন্তু প্রক্রিয়াকরণ না জানায় সেগুলো কাচা অবস্থায়ই রফতানি করা হচ্ছে। এতে লাভ হচ্ছে কম।’

 

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ শেষ হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

 

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘বিদেশ সফর নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তারপরও এটা রাখা হয়েছে। কেননা বিদেশ সফরের প্রয়োজন আছে। কারণ, এটি বাংলাদেশে প্রথম চাষ। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সফরের মাধ্যমে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তারা দেশে এসে তা কাজে লাগাতে পারবে।’ সুত্রঃ সারাবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *