গা বাঁচানোতেই কেটে গেল বিএনপির আরেকটি বছর

নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপির আরেকটি বছর কেটে গেল ডিফেন্সিভ (গা বাঁচানোর) মুডেই। রাজনীতির মাঠে বড় কোনো কর্মসূচি ছিল না বছরটিতে। তার ওপরে মহামারি করোনা ব্যাহত করেছে দলটির স্বাভাবিক ও দিবসভিত্তিক কর্মসূচি।

 

আসছে নতুন বছরে মাঠের বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি আরো সঙ্ঘবদ্ধ হতে চায়। চিন্তা রয়েছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে ঘিরে নানা কর্মসূচির। পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জোরালো করার কথাও বলেছেন দায়িত্বশীল নেতারা।

 

২০২০ সালে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর ছিল চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার আগে ২৫ মাস কারান্তরীণ ছিলেন বিএনপি প্রধান। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মুক্তির দাবিতে মাঠের কর্মসূচিসহ দলটি আইনি নানা তৎপরতার দ্বারস্থ হলেও কোথাও কোনো ঠাঁই পায়নি। নেত্রীর মুক্তি ইস্যুতে শক্ত কোনো কর্মসূচি না থাকায় তৃণমূলের নেতারাও ছিলেন ক্ষুব্ধ। অবশেষে করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে অসুস্থ বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয় সরকার। এই মুক্তির মধ্য দিয়ে স্বস্তি মেলে বিএনপি নেতাদেরও।

 

খালেদা জিয়াকে প্রথম দফায় ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হয়। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বরে সময় আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। তিনি এখন গুলশানের বাসায় রয়েছেন। মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তাকে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া মুক্ত নন। তাকে গৃহ অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। চিকিৎসাও নিতে পারছেন না।’

 

করোনা মহামারীর প্রকোপ চলতে থাকায় বছরের প্রায় পুরো সময় দিবসভিত্তিক দলীয় কর্মসূচিতে সময় কাটিয়েছে বিএনপি। করোনার কারণে মাঠের রাজনীতি না থাকায় বেশ কিছু আলোচনা সভা হয়েছে ভার্চুয়ালি। ‘বিএনপি কমিউনিকেশন’ এসব আলোচনা সভার আয়োজন করে। দলটির স্থায়ী কমিটির সাপ্তাহিক সভাও এখন হচ্ছে অনলাইনে। প্রতিটি সভায় সভাপতিত্ব করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান লন্ডন থেকে দল পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। নেতৃত্বে মা খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি তিনি সামাল দিচ্ছেন বেশ দক্ষতার সাথেই। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সাথে একটি শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন তিনি, যার মাধ্যমে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।

 

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নতুন জাতীয় নির্বাচনের দাবি বারবার তুলে ধরছি। নতুন বছরেও এই দাবি জোরালো করতে যেটুকু স্পেস আছে, সেটুকু কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হবে।

 

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তারা গণতন্ত্রের লেবাসে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নতুন বছরেও এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *