নজর২৪, ঢাকা- বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের গ্রেপ্তারসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় এক ঘণ্টা অবরোধ করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। কর্মসূচিতে আগামী ১ ডিসেম্বর সারা দেশে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাত দফা দাবিতে শনিবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল চারটায় শাহবাগ মোড়ে রাস্তা আটকে অবস্থান নেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও আল মামুনের নেতৃত্বাধীন অংশের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। পরে তাঁরা সেখানে গণজমায়েত করেন। একটি মিনি ট্রাকের ওপর মঞ্চ স্থাপন করে দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত। বিকেল পাঁচটার দিকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা সেখান থেকে সরে যান।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শাহবাগ মোড়ে এসে অবরোধ শুরু হয়৷ এতে রাস্তা অবরোধ করে রাখায় রাজধানীর শাহবাগমুখী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মী জড়ো হন। মঞ্চের নেতাকর্মীরা মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমকে গ্রেফতারের দাবি করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন৷
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মামুনুল হককে গ্রেফতার করতে হবে। মহানবী (সা:) ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করার অপরাধে আজ থেকে সমগ্র বাংলাদেশে ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলো মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার না করলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সারাদেশে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রদান এবং স্থাপিত ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।
“সম্প্রতি একটি ইসলামী ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবীর (সা.) অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নবীজীকে অবমাননা করেছেন। মহানবীকে অবমাননা করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অপরাধে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করতে হবে।”
মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, আপনারা যে হাত দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে দিতে চেয়েছেন সেই হাত আমরা ভেঙে গুড়িয়ে দেবো। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে কেউ যদি হাত দেয় তাদের হাত আমরা বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেবো। বাংলাদেশের মাটিতে আমরা কখনো পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেবো না।
তিনি আরো বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিএনপির সাথে জোট করে শাসনক্ষমতায় ছিলেন, তখন আপনাদেরকে জোট করে ভাস্কর্য ভাঙার কথা শুনিনি। হঠাৎ করে ফ্রান্সের ওই ইস্যুকে নিয়ে যখন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছেন, তখন এই ভাস্কর্য ইস্যুকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আপনারা ভাস্কর্য এবং মূর্তির পার্থক্য বুঝেন না। আপনারা ধর্মান্ধ, আপনাদের জন্য বাংলাদেশ পিছিয়ে যেতে পারেনা।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৭ দফা দাবি:
১. মহানবী (সা:) কে অবমাননা ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করার অপরাধে ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক ও ফয়জুল করিমকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২. দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে।
৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে অবিলম্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদ-মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।
৪. বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৫. ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
৬. মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে।
৭. সকল মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
