ফেরদৌসকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে খুব ভালো লাগে: পূর্ণিমা

পুরো নাম ফেরদৌস আহমেদ। বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে আবির্ভূত একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেতা। পাশাপাশি তিনি মডেল, চলচ্চিত্র প্রযোজক, টিভি উপস্থাপক। ১৯৭৪ সালের ৭ জুন কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করেছেন।

তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র নায়ক সালমান শাহর অসমাপ্ত কাজ বুকের ভিতর আগুন। এরপর ১৯৯৮ সালে এককভাবে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত পৃথিবী আমারে চায় না ছবির মধ্য দিয়ে।

এরপর তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেন ১৯৯৮ সালে ভারতের চলচ্চিত্রকার বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত যৌথ প্রযোজনার ছবি হঠাৎ বৃষ্টি ছবির মাধ্যমে। এছাড়া তার অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা রয়েছে।

ফেরদৌসের জন্মদিনে তাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন পূর্ণিমা। তিনি বলেন, ‘ফেরদৌসের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব পারিবারিক। কেউ কেউ আছেন শুধু দুজনের মধ্যে বন্ধু, কিন্তু পরিবারের মধ্যে না। আমাদের বন্ধুত্ব তা নয়। আমি যখন তাকে ফোন করি, সেটা আমার সন্তান যেমন জানে, তার সন্তানরাও জানে। আমরা কথা বলার সময় সবার আগে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিই। ভাবির সঙ্গেও কথা বলি। আমাদের বন্ধুত্ব এতটাই গভীর।’

‘আমরা বন্ধু হিসেবে যতটা বেশি কাছাকাছি, ততটা কিন্তু সিনেমায় জুটি হিসেবে কাজ করিনি। বন্ধু হতে ওই বিষয়টি দরকার হয়নি। দুজনে খুবই কম সিনেমা করেছি। কিন্তু, প্রথম সিনেমা করার সময় থেকেই বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনি। আউটডোরে শুটিং করেছিলাম। বেশ কিছুদিন সবাই মিলে সেখানে ছিলাম। তখনই বুঝতে পারি মানুষ হিসেবে অনেক ভালো তিনি। তারপর বন্ধুত্বের জার্নিটা শুরু হয়।’

‘তখন আমরা শুটিং নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ফেরদৌস অবশ্য কলকাতায়ও প্রচুর সিনেমা করতে থাকে । তখন হঠাৎ বৃষ্টি মুক্তি পেল। দারুণ সাড়া পড়ল। বন্ধু হিসেবে আমিও গর্ববোধ করি। মনে আছে, ওই সময়ে কলকাতা যাব। তখন ফেরদৌস আমাকে বলল, হঠাৎ বৃষ্টির অডিও ক্যাসেট নিয়ে এসো। তখন তো অডিও ক্যাসেটের যুগ। তারপর কলকাতায় যাই। ওখানে ঘুরে ঘুরে হঠাৎ বৃষ্টি সিনেমার ৩টি অডিও ক্যাসেট কিনি। দুটো তার জন্য এবং একটি আমার জন্য। ফিরে এসে দিলাম, ওতো খু্ব খুশি হলো। আমিও একটি নিয়ে শুনতে শুনতে সবগুলো গান মুখস্থ করে ফেললাম। এখনো হঠাৎ বৃষ্টির সব গান আমার মুখস্থ। এভাবেই বন্ধুত্বের গভীরতা দিন দিন বাড়তে লাগল।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুজনের সিনেমা কম হোক, কিন্তু বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি। গত ৬ বছর আমরা দুজনে একসঙ্গে স্টেজ, টেলিভিশনে অনেকগুলো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। সিনেমার চেয়ে উপস্থাপনায় বরং জুটি হিসেবে প্রচুর কাজ করেছি। যা কি না দর্শকরা পছন্দ করেছেন। এখন আমরা যেখানেই থাকি, নিজেদের খোঁজ-খবর নিই, পরিবারের খোঁজ নিই। দীর্ঘ দিনের পথচলায় বন্ধু হিসেবে মনে হয়েছে, ব্যক্তি মানুষ হিসেবে সে খুব ভালো। ব্যক্তিত্ববান একজন মানুষ। বন্ধু হিসেবে ফেরদৌস অসাধারণ। মানুষ হিসেবেও অসাধারণ। তার মধ্যে কোনো ঝুট-ঝামেলা নেই। ঝুট-ঝামেলা পছন্দ করে না। একজন ভালো মানুষের যা যা গুণ আছে তা সবই আছে ওর মধ্যে।’

‘ফেরদৌসের মধ্যে নেগেটিভ কিছু নেই। কারো ক্ষতি করে কিছু করে না। এসব চিন্তাও করে না। ফিল্মে কাজ পাওয়া নিয়ে নানারকম কিছু হয়ে আসছে। কিন্তু ফেরদৌস ওসবের মধ্যে নেই। কাউকে বাদ দেওয়া, কাউকে ছোট করা এসবের মধ্যে কখনো ছিল না। সবসময় ইতিবাচক চিন্তাভাবনা নিয়েই এতটা বছর ধরে পথ চলছে। এমন ভালো মানুষকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে খুব ভালো লাগে। সবচেয়ে বড় কথা- ফেরদৌসের মনটা খুব বড়। জন্মদিনে তার জন্য শুভেচ্ছা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *