বিয়ের বছর না পেরোতেই ভেঙে যাওয়ার পথে আলোচিত-সমালোচিত মডেল ও অভিনেত্রী সানাই মাহবুবের সংসার। আকারে ইঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের বিষয় প্রকাশ করেন তিনি।
সস্প্রতি তিনি তার স্বামী আবু সালেহ’র মুসার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। গত ২২ মে প্রথম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘বিচ্ছেদ স্বাভাবিক ব্যাপার, জীবনেরই অংশ’ শীর্ষক স্ট্যাটাস দিয়ে ডিভোর্সের ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর মাঝে বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ফেসবুক পেজে স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা আবু সালেহ মুসার সঙ্গে ডিভোর্সের অফিশিয়াল কাজ শুরুর কথা জানান সানাই।
এদিকে সম্প্রতি তার স্বামী আবু সালেহ মুসা সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেন, তাকে মারধর করেছেন সানাই। এতে তার কিডনিতে সমস্যা হয়েছে।
এ নিয়ে শুক্রবার ফেসবুকেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সানাই। তার দাবি, তার স্বামীর দাবি সত্যি নয়, তাকে তিনি মারধর করেননি।
সানাই মাহবুব তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লেখেন— ‘পেইজ হ্যাক হওয়ার কারণে আমি এক্সেস পাচ্ছিলাম না। আর ওই দিকে আমাকে নিয়ে যে লেভেলের উল্টা-পাল্টা নিউজ হচ্ছে। আচ্ছা, সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনাদের কাছে তো আমার নাম্বার আছে, নিউজের আগে কি আপনারা একটিবার আমাকে ফোন করার প্রয়োজন মনে করেননি?
‘আমি কোন দুঃখে আমার স্বামীকে মারতে যাব? আর কিডনি ড্যামেজ করে দিয়েছি মানে? আসেন আপনারা সবাই মিলে পপুলার কিংবা ল্যাবএইডে গিয়ে আমার স্বামীর কিডনি পরীক্ষা করে দেখি। রিপোর্ট কি আসে। সেখানেই প্রমাণ হবে কিডনি ঠিক আছে কিনা। এগুলো আশ্চর্যজনক নিউজ আপনারা কীসের ভিত্তিতে করেন? আপনারা আসেন না ভাই, ওকে নিয়ে পপুলার বা ল্যাবএইডে গিয়ে একটা টেস্ট করাই, তার পর না হয় রিপোর্টের ছবি দিয়ে নিউজ করলেন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘রিপোর্ট তো ভুয়া বানানো যায়। কারণ আমার স্বামীর পরিচিত ডাক্তার আছে ডজন ডজন। তাই তার কিডনির পরীক্ষা আপনাদের উপস্থিতিতে ফেসবুক লাইভে থেকে করা হবে। দেখি কি রিপোর্ট আসে। ওপেন চ্যালেঞ্জ করলাম আমি। কীভাবে আপনারা এসব অযাচিত নিউজ করেন?’
আলোচিত এই মডেল আরও লেখেন, ‘আমার তো সৎসাহস আছে, আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ করতেছি, চলুন তাকে নিয়ে পপুলার কিংবা ল্যাবএইডে যাই কিংবা এভারকেয়ারে কিংবা অন্য কোনো হসপিটালে যাই। গিয়ে আপনারা লাইভে থাকলেন না হয়। একটা টেস্ট করান ওর, তা হলেই তো হয়। প্রমাণ চলে আসবে। আসেন আপনারা সবাই।’
এরই মধ্যে শনিবার (০৩ জুন) সানাই মাহবুব সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমার স্বামী শারীরিক ভাবে অক্ষম। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। কাউন্সিলিংয়ের কাছে নিয়ে গেছি কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। বিয়ের রাতেই তার সমস্যার কথা জানতে পারি। বিষয়টি মেনে নিয়ে চিকিৎসা করাই। কিন্তু লাভ হয়নি। সেও অনেক হারবাল ঔষধ খেয়েছেন। তাদেও লাভ হয়নি। তার পরিবার তার ব্যাপারে উদাসীন। তারা আমার মিডিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে। তাদের সন্তান অক্ষম জানার পরও আমাকে এভাবেই মানিয়ে নিতে বলে। এভাবে তো আর চলতে পারে না। তাই বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৭ মে পারিবারিক আয়োজনে অনেকটা গোপনেই বিয়ে করেন আবু সালেহ মুসাকে। বিয়ের পরই শোবিজকে বিদায় জানিয়ে ধর্ম-কর্মে মনোযোগী হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
