নিজেই নিজেকে চিনতে পারলেন না চঞ্চল চৌধুরী!

অভিনয়শিল্পীদের জীবনের এই এক অদ্ভুত অধ্যায়। যতটা বাস্তবে থাকেন, ধারণকৃত চরিত্রে থাকেন তার চেয়েও অনেক বেশি! কিন্তু সেই চরিত্রে নিজেকে দেখে কারও কাছে অচেনা লাগে কি? উত্তর হলো- লাগে। যেটার তরতাজা উদাহরণ চঞ্চল চৌধুরী।

এই প্রথমবারের মতো টলিউডের ছবিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল। নাম ‘পদাতিক’। এটি নির্মাণ করছেন কলকাতার খ্যাতিমান নির্মাতা সৃজিত মুখার্জি। ছবিটি নির্মিত হচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের জীবন অবলম্বনে। এর এতে খোদ মৃণাল সেন রূপে কাজ করেছেন ঢাকার চঞ্চল।

চঞ্চল থেকে মৃণাল হয়ে ওঠার পেছনে কিছুটা সুবিধা পেয়েছেন বটে। কেননা, মৃণালের সঙ্গে তার চেহারার খানিকটা মিল আছে। কিন্তু একজন কিংবদন্তি নির্মাতার চিন্তা, আদর্শ, ভাবভঙ্গি আর চলচ্চিত্র দর্শন, এসব ধারণ করা মোটেও সহজ ছিল না। তাই চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি অভিনেতা।

এর আগে, গত ১৪ মে ছিল মৃণাল সেনের জন্মদিন। এ উপলক্ষে মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটিতে ‘পদাতিক’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। সেখানেই ছবির একটি স্থিরচিত্র ব্যবহার করা হয়। যেটা দেখে চমকে গেছেন খোদ চঞ্চলই!

মঙ্গলবার (১৬ মে) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে চঞ্চল বলেন, ‘ছবিটা দেখে প্রথমে আমি নিজেও অবাক হয়ে যাই, এটা কি মৃণাল সেন, নাকি আমি! সত্যটা বুঝতে একটু সময় লেগেছে, সেই সঙ্গে অনেকখানি ভালোও লেগেছে।’

তিনি লেখেন, ‘মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুন্ডুর কি অসাধারণ কাজ। মৃণাল সেনের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিখ্যাত পত্রিকা “ভ্যারাইটি” মৃণাল সেনের চরিত্রে অভিনীত আমার এই ছবিটি দিয়ে আমার এবং পরিচালক সৃজিত মুখার্জি ও প্রযোজক ফেরদৌসুল হাসানের একটি ইন্টারভিউ ছেপেছে।’

বাবা হারানোর শোকের প্রসঙ্গ টেনে এ অভিনেতা লেখেন, ‘বাবার সদ্য মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে শেষ করেছি মৃণাল সেনের জীবনভিত্তিক সিনেমা “পদাতিক”এর কাজ। এ বছরই সিনেমাটি মুক্তি পাবে হলে। প্রযোজকের ইচ্ছা একই সঙ্গে দুই বাংলাতেই তিনি সিনেমাটি মুক্তি দিতে চান।’

সবশেষ ‘আয়নাবাজি’ খ্যাত অভিনেতা লেখেন, ‘বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেনের জন্মশত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই পরিচালক সৃজিত মুখার্জী “পদাতিক” সিনেমাটি নির্মাণ করছেন। ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা সৃজিতদার প্রতি, এরকম একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ে আমাকে নির্বাচন করার জন্য।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *