বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যেতি জানিয়েছেন, অভিনয় করতে গিয়ে জীবনটাই তিনি ‘নষ্ট’ করেছেন-এমন গঞ্জনা জীবনে জুটলেও অভিনয় তিনি ছাড়বেন না।
আগামী দুই বছরের জন্য জ্যোতি চুক্তিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন হওয়ার তিন দিন পর কাজে যোগও দিয়েছেন তিনি।
সরকারি এই কাজ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, “ভালো ছাত্রী, ভালো রেজাল্ট, কাজেই বিসিএস অথবা একটা ভালো চাকরি অথবা একটা ভালো বিয়ে- এই ছিল আমার কাছ থেকে পরিবারের প্রত্যাশা।
“কিন্তু আমি হাঁটলাম ভিন্নপথে। তার জন্য অনেক বঞ্চনা, গঞ্জনা পাওয়া হল জীবনে- ইংরেজিতে এমএ পাস করে অভিনয়ে গিয়ে জীবনটাই নাকি নষ্ট করে দিলাম।”
নতুন নিয়োগে পরিবারের প্রতিক্রিয়াও জানান জ্যোতি। “শিল্পকলার পরিচালক পদে নিয়োগপ্রাপ্তি আমাকে যেমন তেমন, আমার পরিবারকে ভীষণ খুশি করেছে। শুনলাম বাবা নাকি মিষ্টি খাইয়েছে তার বন্ধুদের। ফোনে ভাইবোনের কন্ঠ খুশিতে আটখানা। বোন বললো, ‘তুমি এটাই ডিজার্ভ কর, আমরা তোমার কাছ থেকে এমনটাই আশা করি’। আর মা তো কবে থেকেই আশীর্বাদ করে যাচ্ছে।”
ফেইসবুক পোস্টের সাথে একটি ছবিও শেয়ার করেছেন জ্যোতি। সেই ছবিটি পরিবারকে উৎসর্গ করার কথা জানিয়ে জ্যোতি লেখেন, “নতুন যাত্রার প্রথম দিনের এই ছবিটি প্রথম অফিসের সামনে তুলে পরিবারকে উৎসর্গ করলাম। তবে ভিন্নপথে হাঁটা চলবে।”
শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বুধবার ফেসবুকে একটি একটি স্ট্যাটাস দেন।
স্ট্যাটাসে জ্যোতিকা জ্যোতি লিখেছেন, ‘এত ভালোবাসায় ভাসিনি কখনো! এ আমার পরম পাওয়া। শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে আমার নিয়োগের রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন বের হওয়ার পর থেকে দেশের আনাচে কানাচে, আমার নিজের এলাকা ও বিদেশ থেকে অগণিত মানুষের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছি আমি। আপনাদের এই শুভেচ্ছা আমার পাথেয় হয়ে থাকবে, আমি অভিভূত! আপনাদের ভালোবাসা আর এত বড় দায়িত্বের চাপ আমাকে নতুন করে অনেক কিছু ভাবাচ্ছে।’
জ্যোতি আরও লিখেছেন, ‘গতকাল (১৪ মার্চ) একটু ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে মন্ত্রণালয়ে, প্রচুর ফোনকল, হোয়াটআ্যপ, মেসেঞ্জার কল, মেসেজের কারণে ফোন হ্যাং হয়েছে কয়েকবার, চার্জ করতে হয়েছে কয়েকবার-এসব কারণে আমি অনেকের কল ধরতে পারিনি, মেসেজের রিপ্লাই করতে পারিনি। আশা করি আপনারা আমাকে বুঝবেন। আমি তো চাই প্রত্যেকের সাথে ব্যক্তিগতভাবে এই আনন্দ ভাগাভাগি করি।’
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জ্যোতি লেখেন, ‘প্রতিটি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা যারা আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমে উইশ করেছেন, কৃতজ্ঞতা প্রতিটি মিডিয়ার প্রতি যারা আমার কাজ ও আমাকে ভালোবেসে প্রচার প্রচারণা করছেন। আপনাদের এই উৎসাহ আমার দায়িত্ব পালনে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিকাশে আমার পথচলায় দারুণ শক্তি জোগাবে। ধন্যবাদ সবাইকে।’
