অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে যে আমি এত্তো হাস্যজ্বল কেন? মাঝে মাঝে দু একজন আমার সমবয়সী তারা হিংসাত্মক ভাবেই বলে। অনেক নতুন নায়িকারা প্রশ্ন করে আমি কোন স্কিনের চিকিৎসা করিয়েছি কিনা?
আবার অনেকে ভাবে নায়িকা এদের আবার ব্যথা কিসের? এরা সব সময় সুখী। তাই হাসিখুশি থাকে- চেহারা এমন। সত্যি বলতে -আমি, সদাহাস্যজ্বল এবং পজিটিভ মাইন্ডেড মানুষ। এবং আমি আগে যেমন ছিলাম এখনো তেমন।
ব্যাথা, হতাশা আমার কাছে স্থান পায় না, আমি ধরেই নেই সুখ, দু:খ ক্ষনস্থায়ী সুতরাং দু:খ নিয়ে ভেবে নিজেকে মানসিক যন্ত্রণা না দিয়ে সুখ নিয়ে ভেবে নিজের মানসিক প্রসান্তি দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আর যারা বলে এখনো চেহারা সুন্দর এরা সারাদিন রুপ চর্চা করে তাদের একটু অহংকার নিয়ে বলি। আমি- (নূতন) শাবানা, ববিতা, কবরী, সুচরিতা, রোজি, অঞ্জনা, সুজাতা, চম্পা, অলিভিয়া, সুমিতা, শবনম আরও অনেকের পরে এত্তো সুন্দরী ছিলাম যে, সে সময় সংবাদ হয়েছিল। নূতনের চেহারার কোন ভুল নেই। আমার মেকাপ/ম্যাকাপ বা পোশাক নিয়ে কোন পরিচালক- প্রযোজককে ভাবতে হতো না। স্কিন এমন ছিল যে বারতি মেকাপের প্রয়োজন ছিলো না।
যদিও আমি প্রচার বিমুখ একই সাথে অনেক বড় অভিনেত্রীদের মাঝে আমার অনেক ব্যাক সাইড ছবি করতে হয়েছে। আবার চেহারার জন্যই আমাকে সাপের ছবি বেশী করতে হয়েছে। মর্ডান ক্যারেক্টার বেশী করতে হয়েছে। তখন প্রচলন ছিলো গ্রাম বাংলার ছবি। তাই সেভাবে প্রচারণা হয়নি। বা হয়েছে তা স্থায়িত্ব পায় নি।
এখন আমি সচারাচর রাস্তায় চলাচল করি পরিবেশ বা নানান কারনে চেহারায়-বয়স বা একটু এদিক সেদিক হয়েছে। তা- না হলে বয়স আমার কাছে সংখ্যা মাত্র, আমি বয়স অনুযায়ী আল্লাহর রহমতে চির সুন্দরী ছিলাম আছি ইনশাল্লাহ থাকবো।
যদিও আমি বয়স অনুযায়ী পোশাক পরিধান করি না, আমার মন কে প্রাধান্য দিয়েই পোশাক পরিধান করি। নিজেকে আমি সবসময় ৭০-৮০-৯০ দশকের গ্লামার নায়িকা ভাবি। তাতেও এ প্রজন্মের অনেকের অব্জেকশন আছে। তাতে আমার কিছু যায় আসে না কারন এ ব্যাপারে আমি যুগের সাথে তাল না মিলাতে পারার জন্য বদ্ধপরিকর চিন্তা নিয়ে আছি।
এ প্রজন্মের বা ২০০০ এর পরের প্রজন্মের মানুষ যারা সালমান, মান্না, শাকিব, রিয়াজ, শাকিল, ফেরদৌস, অমিতদের ভক্ত তারা আমায় ভালো করে জানে না বা তারা যাদের ছবি দেখেছে তখন আমি “মা” বা “ভিলেন”করিনি চলচ্চিত্রেও বিরতিতে ছিলাম। তা না হলে এ যুগের ছেলেমেয়েরা আমার ইতিহাস জানতো।
সুতরাং অহংকার করে বলি আর নিজেকে জাহির করার জন্য বলি। মোটা দাগে আসল কথা হচ্ছে। মানসিক শান্তি সবচেয়ে বড় সম্পদ- বড় সুখ যা হাস্যজ্বল থেকে আদায় করতে হয় আর হাস্যজ্বল থেকে মন প্রফুল্লতা থাকলে চেহারার তা প্রকাশ করে। দেখতে যেমনই হোন কেন?
আপনার কাছে আপনি আপনার পরিবার, সন্তান, সবার কাছে আপনি সুন্দরী। আপনি সুন্দর দুনিয়া সুন্দর। নিজে সুন্দর থাকুন অপরকে সুন্দর রাখুন। নিজে হাসুন দুনিয়াকে হাস্যজ্বল করুন।
(অভিনেত্রী নূতনের ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত)
