এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান হিরো আলম

বিএনপির সংসদ সদস্য আলহাজ মোশাররফ হোসেনের পদত্যাগের পর বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন শূন্য ঘোষণা হয়েছে। এরই মধ্যে উপ-নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা হয়েছে। এই আসনে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন আলোচিত মুখ হিরো আলম।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে একটি সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন হিরো আলম নিজেই।

তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আমি আবার নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এবারউপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হতে চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য যারা ভালো কাজ করছেন তাদের সঙ্গী হিসেবে নিচ্ছেন। তাই আমিও এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি নৌকার নমিনেশন পাবো।

‘যদি আমাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয় তাহলে নির্বাচন করব। যদি না দেওয়া হয় তাহলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেব।’

এর আগে সম্প্রতি জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন হিরো আলম। কিন্তু তাঁর কাছে দলীয় মনোনয়ন ফরমই বিক্রি করেনি জাপা। এতে ক্ষুব্ধ হিরো আলম জানিয়েছিলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।

বিএনপির এমপিদের পদত্যাগে শূন্য সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচন হবে ১ ফেব্রুয়ারি। তফসলি অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এর আগে রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে। উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া জাপা বৃহস্পতিবার বনানী কার্যালয় থেকে দলীয় ফরম বিক্রি শুরু করে।

ফরম কিনতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বনানীতে যান হিরো আলম। কিন্তু জাপার দপ্তর থেকে জানানো হয়, তাঁর কাছে ফরম বিক্রি করা হবে না। জাপার দপ্তর সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক খান বলেছেন, দলীয় মনোনয়ন ফরম শুধুমাত্র দলের নেতাকর্মীদের কাছে বিক্রি করা হবে। তারপর যাচাইবাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেবে। হিরো আলম জাপার কেউ নন। তাই তাঁর কাছে ফরম বিক্রি করা হয়নি।

তবে হিরো আলমের দাবি, তিনি ২০১৮ সালে জাপায় যোগ দিয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাপার মনোনয়ন ফরমও কিনেছিলেন। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে। এবারও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।

জানা গেছে, আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চেয়েও পাননি। পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেও সিরিয়ালে দুই নম্বরে ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন দাখিল করেও যাচাই-বাছাইয়ে দুই দফায় মনোনয়ন বাতিল হয়।

পরে হাইকোর্টে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান। ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মাঝেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (সিংহ প্রতীকে) হিসেবে অংশ নেন হিরো আলম। তবে হেরে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *