দ্বিতীয়ার্ধে চেনারূপে ব্রাজিল, সার্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু নেইমারদের

প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ। বিপক্ষের বক্সে ক্রমাগত হানা। কিন্তু একটা ফুটবল ম্যাচ জিততে গেলে যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার, সেই গোলটাই করতে পারছিল না ব্রাজিল। প্রথমার্ধের খেলা দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠে যায়, আবার একটা অঘটন দেখবে না তো এই বিশ্বকাপ?

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মতো নেইমারের ব্রাজিলও কি সমর্থকদের হতাশ করবে? সেটা হল না। দ্বিতীয়ার্ধে পাওয়া গেল চেনা ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সার্বিয়াকে ২-০ হারিয়ে অভিযান শুরু করল ব্রাজিল।

এ দিন প্রথম একাদশে রিচার্লিসন, ভিনিসিয়াস, রাফিনহাকে রেখে কোচ তিতে বুঝিয়ে দেন, তিনি আক্রণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলতে চান। সঙ্গে নেইমার তো ছিলেনই। ফলে আক্রমণে বিকল্পের কোনও কমতি ছিল না।

তবে দুই দলের লক্ষ্যভেদের ব্যর্থতায় গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। দ্বিতীয়ার্ধে যেন চিরচেনা ব্রাজিলকে দেখতে পায় ফুটবল বিশ্ব। রিচার্লিসনের জোড়া গোলে দুর্দান্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ২০০২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।

লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুর সপ্তম মিনিটেই নেইমারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন সার্বিয়ার স্ট্রাহিঞ্জা পাব্লুভিচ। ২৭তম মিনিটে প্রথম নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে ভিনিসিউস। বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দে থাকা ব্রাজিল। আজ যেন এলোমেলো ফুটবল উপহার দিচ্ছে। একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ দল।

৪১তম মিনিটে আবারও সেই ভিনিসিউস সুযোগ হাতছাড়া করলেন। এই রিয়াল তারকার দুর্বল শটে গোলরক্ষক পর্যন্ত বল যেতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রতেই সন্তুষ্ট থেকে বিরতিতে যায় দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন নিজেদের ফিরে পায় নেইমাররা। ৫১তম মিনিটেই ডি বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পেয়ে যায় ব্রাজিল। সেখান থেকে সার্বিয়া দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হলেও প্রথমার্ধ থেকে অনেকটা গোছানো আক্রমণ করতে দেখা যায় তিতে শিবিরে।

সেই ধারাবাহিকতায় ৬২তম মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিউসের অ্যাসিস্টে রিচার্লিসনের ফিনিশিংয়ে সার্বিয়ার জালে প্রথমবারের মতো আঘাত হানে সেলে সাওরা।

গোল পেয়েই যেন আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে নেইমার বাহিনী। ১১মিনিট পর আবারও সেই টটেনহ্যাম তারকা রিচার্লিসন জাদুতে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত আরো একাধিক সুযোগ পেয়েছিল তিতের দল। তবে সার্বিয়ানদের জন্য বারপোস্ট একাধিকবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

দুই দলের কেউই আর গোল না করতে পারলে ২-০ গোলের জয় দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে ব্রাজিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *