অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলী একে-অপরকে পছন্দ করেন না, এটা সিনে পাড়ার কম-বেশি সকলের জানা কথা। এই অপছন্দের কারণ শাকিব খান। কারণ দু’জনেই ঢালিউডের শীর্ষ নায়কের সঙ্গে প্রেম-বিয়েতে জড়িয়েছেন। অপুর সঙ্গে দীর্ঘ দশ বছরের সংসার জীবন পেরিয়ে বুবলীর সঙ্গে ‘চ্যাপ্টার টু’ শুরু করেছেন শাকিব। যদিও সেই অধ্যায়েও সমাপ্তির গুঞ্জন শোনা যায়।
এদিকে শাকিবকে কেন্দ্র করে অপু ও বুবলীর মধ্যকার অদৃশ্য দ্বন্দ্ব মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে চলে আসে। কখনও সাক্ষাৎকারে তারা ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন, কখনও আবার শাকিবের কাছে নিজের অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠায় মেতে থাকেন। তবে এবার প্রকাশ্যেই যেন ঝগড়ায় জড়ালেন অপু-বুবলী!
সোশ্যাল মিডিয়ায় একে-অপরকে ইঙ্গিত করে পোস্ট দিয়েছেন। যা দেখে নেটিজেনরা খুঁজে পাচ্ছে বিনোদনের খোরাক।
কদিন আগেই ছিলো বুবলীর জন্মদিন। এ উপলক্ষে শাকিব খান তাকে হীরের নাকফুল উপহার দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান নায়িকা। সেই খবরের লিংক নিজের ফেসবুক দেয়ালে শেয়ার করেন অপু। ক্যাপশনে জুড়ে দেন তাচ্ছিল্যের হাসি- ‘কী যে মজা মজা!’ সঙ্গে কয়েকটি হাসির ইমোজি।
কারও বুঝতে বাকি নেই, অপুর খোঁচার তীর বুবলীর দিকেই। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে বুবলীও খোঁচা দেন অপু বিশ্বাসকে।
বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে নানা ধরনের চর্চা চলতে থাকে। পুরো বিষয়টির কেন্দ্রে যেহেতু শাকিব খান, তাই বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলেন একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে।
শাকিব খান বললেন, ‘ডায়মন্ডের নাকফুল তিনি উপহার পেতেই পারেন। ১টা কেন, ১০টাও পেতে পারেন। তাঁর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবেরা আছেন। তবে সবাইকে আশ্বস্ত করে একটা কথা বলতে চাই, কোনো ধরনের ডায়মন্ড নাকফুল আমি তাঁকে উপহার দিইনি।
সত্যি কথা বলতে, তাঁর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই। উপহার দেওয়া কিংবা উইশ করা—কোনোটাই আমার পক্ষ থেকে হয়নি। সন্তানের প্রয়োজনে সে আমাকে বা আমি তাকে লিখলেও তা শুধু শেহজাদকে কেন্দ্র করে যতটুকু দরকার, ততটুকুই হয়, এর বাইরে আর কোনো কিছুর প্রশ্নই আসে না।’
উল্লেখ্য, এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ জানা যায়, শাকিব খান ও শবনম বুবলী মা-বাবা হয়েছেন। এই তারকা জুটির পুত্রসন্তানের বয়স আড়াই বছর।
জানা যায়, বুবলী মা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড জ্যুইশ মেডিকেল হাসপাতালে। ২০২০ সালের ২১ মার্চ তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের নাম রাখা হয় শেহজাদ খান বীর। এর ঠিক দুদিন পর বুবলী তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, তাঁর জীবনের দুটি স্মরণীয় তারিখের কথা।
বুবলী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার জীবনের স্মরণীয় দুটো তারিখ। ২০ জুলাই ২০১৮, এটি আমাদের বিয়ের তারিখ। আর ২১ মার্চ ২০২০ আমার ছেলের জন্মতারিখ।’ এরপর থেকে শাকিব খান ও বুবলীকে ঘিরে চলে আলোচনা।
তবে ঘোষণার ঠিক দুদিন পর ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘লিডার, আমিই বাংলাদেশ’ ছবির গানের শুটিংয়ে দেখা যায়, তাঁরা কেউ কারও সঙ্গে কথা বলেননি। এমনকি দুজনের বিশ্রামের জন্য পাঁচতারা সেই হোটেলে ছিল আলাদা দুটি কক্ষ। এরপর থেকে গুঞ্জন রটে, শাকিব–বুবলী কি আদৌ একসঙ্গে আছেন, নাকি সম্পর্ক ঘোষণার আগেই শেষ হয়ে গেছে।
শাকিব গণমাধ্যমে বিভিন্ন কথার মাধ্যমে ইঙ্গিত দেন, তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। তবে বুবলী সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, তাঁদের সম্পর্ক আছে। দুজনের এমন কথায় শাকিব খানের ভক্ত–শুভাকাঙ্ক্ষীরাও দোটানায় পড়েন। অবশেষে শাকিব খান সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি বুবলীকে কোনো হীরার নাকফুল উপহার দেননি। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগই নেই।
