মেসির শেষ বিশ্বকাপের শুরুতেই অঘটন। নড়বড়ে রক্ষণ, দ্বিতীয়ার্ধে ম্য়াড়ম্যাড়ে মেসি, বড় বেশি মেসি নির্ভরতা, আক্রমণের ঝাঁজ কম, টিম গেমের অভাব- সব মিলিয়েই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারল আর্জেন্তিনা। তাও সৌদি আরবের কাছে।
কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মেসিদের বিপক্ষে ১-২ গোলের জয় পেয়েছে সালেহ আলশেহরি-সালেম আলদাওসারিরা। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে বসে সৌদিকে সমর্থন করেছেন কাতারের আমির।
সৌদি গেজেটের টুইট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি সৌদি আরবের পতাকা হাতে তুলে ধরছেন। তারপর তিনি সেটি গলায় জড়িয়ে ধরেন। তার সঙ্গে থাকা শিশুরাও সৌদির পতাকা উড়াচ্ছিল।
এদিন ম্যাচের শুরুর অর্ধটা বলছিল, ম্যাচটা বুঝি আর্জেন্টিনা জিততে যাচ্ছে হেসে খেলেই! শুরুতেই আক্রমণে ওঠেন মেসিরা, তার একটা শট রুখে দেন গোলরক্ষক ওয়াইস। তবে ১০ মিনিটে তার পেনাল্টিটা ফেরাতে পারেননি। মেসির গোলে এগিয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনা আক্রমণে আরও শাণ দিতে থাকে।
২২ মিনিটে তার সূত্র ধরে আরও একবার বল জালে জড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। তবে মেসির সেই দারুণ ফিনিশ গোলে রূপ পায়নি অফসাইডের কাটায়। লিওনেল স্ক্যালোনির দল আরও দুবার বল জড়িয়েছে সৌদির জালে। সেই দুই বারও আর্জেন্টিনার গোলের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় অফসাইড।
প্রথমার্ধে খেলাটা শেষ করে দিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তারই মাসুলটা দেয় দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতির পর সৌদি আরব গা ঝাড়া দিয়ে উঠল যেন। তিন মিনিটের মধ্যেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান সৌদি ফরোয়ার্ড সালেহ আলসেহরি।
ওই গোলই যেন ভড়কে দিল আর্জেন্টিনাকে। সে গোলের ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, রক্ষণও ধাতস্থ হতে পারেনি। ৫৩ মিনিটেই আবার গোল খেয়ে বসে দলটি। স্ট্রাইকার সালেম আল দাওসারির দারুণ এক গোলে সৌদি আরব এগিয়ে যায় ২-১ গোলে।
আর্জেন্টিনার কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকেছেন সৌদি গোলরক্ষক মোহামেদ আল ওয়াইস। একের পর এক শট রুখেছেন মেসিদের। সৌদি রক্ষণও কম যায়নি। অন্তিম সময়ে একটা শট ফিরিয়েছে গোললাইন থেকে। আর্জেন্টিনা যে ম্যাচটা জিতছে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তখনই। বাকি ছিল কেবল রেফারির শেষ বাঁশির।
অতিরিক্ত সময়ে ওয়াইসের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন আল শাহরানি, তাতে অতিরিক্ত সময়ের দৈর্ঘ্য বাড়ে আরও একটু। মূল সময়ে হয়নি, অতিরিক্ত সময়েও হলো না আর্জেন্টিনার। উদ্বোধনী ম্যাচটা হেরেই শেষ করে লিওনেল মেসির দল। তাতে বিশ্বকাপ স্বপ্নটা যে বিশাল একটা ধাক্কা খেল আর্জেন্টিনার, তা বলাই বাহুল্য!
