দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হয়েছে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২। রবিবার (২০ নভেম্বর) কাতারে আল-খোর অঞ্চলের আল-বাইত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে ফিফা বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়।
পবিত্র কোরআন থেকে পাঠ করেন ফিফা বিশ্বকাপের শুভেচ্ছাদূত ২০ বছর বয়সী গানিম আল-মিফতাহ। গত এপ্রিলে গানিম আল-মিফতাহকে কাতারের পক্ষ থেকে ফিফা বিশ্বকাপের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
তবে তিনি অন্যদের মতো স্বাভাবিক নন। শরীরের নিম্নাংশ নেই ২০ বছর বয়সী এই তরুণের। বিরল এক রোগ (কডাল রিগ্রেশন সিনড্রোম) নিয়ে এই অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
গর্ভাবস্থায় তার এ শারীরিক ত্রুটি ধরা পড়ে। তখন অনেকেই তার মাকে গর্ভপাত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এ অবস্থায়ই তিনি সন্তানকে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নেন। স্বামীকে বলেন, ‘সন্তানের নিম্নাংশ নেই তো কী হয়েছে, আমিই হবো তার বাম পা, তুমি হবে ডান পা।’
২০০২ সালের ৫ মে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এরপর নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে আর বাবা-মায়ের সাপোর্টে তিনি এখন নিজের পরিচয়ে পরিচিত। একাধারে ইউটিউবার, মোটিভেশনাল স্পিকার, কাতার বিশ্বকাপের অ্যাম্বাসেডর। শুধু তাই নয়, শরীরের অর্ধাংশ না থাকার পরও স্কুবা ডাইভিং, স্কেটবোর্ডিং ও পবর্তারোহণে দক্ষ এই তরুণ। গানিম আল-মিফতাহ বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তার ফলোয়ার ৩ মিলিয়নের বেশি।
এদিকে গানিম আল-মিফতাহে মুগ্ধ বাংলা গানের যুবরাজ সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সকালে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। আসিফের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘তিনি গানিম আল মুফতাহ। কাতার বিশ্বকাপে সেরা এবং সর্বোচ্চ স্পটলাইটে এই তরুন। তিনি তাঁর শারীরিক অক্ষমতাকে শক্তিতে রুপান্তর করেছেন। দিন যাচ্ছে আর প্রতিনিয়ত নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ধাবিত করছেন। গানিম জেনে গেছেন তাঁর হারাবার কিছু নেই, তাই বিশ্বজয়ের একতরফা স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের সাহসিকতার জানান দিয়েছেন বিশ্বকে।
কাতার বিশ্বকাপে বিয়ার বিনোদনটা ঝাঁপসা থাকলেও বাকী সব বিষয়ে বিশ্বের সর্বকালের সেরা আয়োজন হতে যাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ। নেতা উপনেতা শাখা নেতা কাঁচা নেতা পাকা নেতার বাংলাদেশী সংস্কৃতির সাথে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে পৌঁছে গেছে এদের সভ্যতা। আমার দেখা ২০০২ সালে কাতার এয়ারপোর্ট ছিল টিনশেডের ছোট্ট ছাউনি, এখন তো সব চোখের সামনে। মাত্র বিশ বছরের ব্যবধানে কাতার সেরা গর্জিয়াস বিশ্বকাপ আয়োজক। ২০২২ সালে এই বিশ্বকাপ খেলার ঘোষনা দেয়া বাফুফে বস দেশকে ১৯২তম স্থান উপহার দিয়েছেন, কপাল ভাল আমরা এখনো ফুটবল গোলার্ধের ভিতরেই আছি।
গানিম আল মুফতাহ বাংলাদেশের সব পর্যায়ে কারণে অকারণে বাকবাকুম করা জাতির জন্য একজন শিক্ষনীয় সুপারম্যান হতে পারেন। গানিমের অর্জন থেকে শিখতে পারলে লেকচার সর্বস্ব দুনিয়ায় আনন্দিত হবার কোন কারণও থাকবে না।
স্যালুট গানিম আল মুফতাহ- দ্যা বেসিক হিরো অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড। অভিনন্দন কাতার। সফলভাবে চলুক কাতার বিশ্বকাপ- ২০২২। ভালবাসা অবিরাম’
