অভিনেত্রী বুবলীর সঙ্গে সম্পর্ক ও ছেলে শেহজাদ খান বীরকে প্রকাশ্যে আনার পর এখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’ ইস্যু শাকিব খান। দ্বিতীয় বিয়ে ও সন্তান জন্মের প্রায় আড়াই বছর পরে তাকে প্রকাশ্যে আনায় একাংশ নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন ঢালিউড সুপারস্টারকে নিয়ে। আবার একই সময়ে গুঞ্জন চাউর হয়, অভিনেত্রী পূজা চেরির সঙ্গে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে শাকিব খানের!
শাকিব খানের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে ইতোমধ্যে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন পূজা চেরি। এ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্যও জানিয়ে দিয়েছেন এই নায়িকা। এমনকি সবাইকে হুঁশিয়ারও করেছেন তিনি। তারপরও যখন চারদিকে গুঞ্জন চাউরই হচ্ছে সেই মুহূর্তে গুঞ্জনকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শাকিব খান। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ষড়যন্ত্রকারীদের কাউকে আর ছাড় দেবেন না তিনি।
শাকিব খান বলেন, আজ আমার ব্যক্তিগত বিষয়কে পুঁজি করে আমার কিছু গোপন শত্রু আমার ব্যক্তি ও ফিল্মি ইমেজ ধ্বংসে ওঠে পড়ে লেগেছে। তারা আসলে অনেক আগেই চলচ্চিত্র জগৎ থেকে আমাকে হটিয়ে দেওয়ার নীলনকশা করে রেখেছিল। কিন্তু আমার দর্শক চাহিদার কারণে তাদের মিশন তারা সফল করতে পারেনি।
এখন আবার আমার গোপন শত্রুরা আরেক নায়িকাকে জড়িয়ে আমার নামে স্ক্যা ন্ডাল ছড়াচ্ছে। এসব বিষয়ে এখনো চুপ করে থাকা মানে নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করা। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে আমার। এবার আইনের পথে হাঁটব। ষড়যন্ত্রকারীদের কাউকে আর ছাড় দেব না।
দেশীয় চলচ্চিত্রে আমার কি কোনো অবদান নেই, এমন প্রশ্ন রেখে কিং খান বলেন, প্রায় তিন দশক ধরে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ কাজ দিয়ে পূর্ণতা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। এসব আমার বানোয়াট কথা নয়। চলচ্চিত্র নিয়ে আমার বিরামহীন মিশন দিবালোকের মতো সত্য। এমনও সময় গেছে চলচ্চিত্রের কাজ দিয়ে আমাদের বিধ্বস্তপ্রায় চলচ্চিত্র জগতের প্রাণ ফেরাতে কোনো বিরাম বিশ্রাম ছাড়াই দিনের পর দিন কাজ করে গেছি। এমন কী ঈদেও শুটিংয়ে ব্যস্ত থেকেছি। আমি জানতে চাই, দেশের প্রধান গণমাধ্যম চলচ্চিত্রের জন্য আমার এই পরিশ্রমের কি কোনো মূল্য নেই।
শুধু দেশে নয়, বিদেশের মাটিতেও আমি আমার দেশের ছবি নিয়ে সম্মানের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। দেশীয় চলচ্চিত্রকে আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
শাকিব খান বলেন, প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত একটি জীবন থাকে। আমারও আছে। আমার প্রেম-বিয়ে-সন্তানের বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এগুলো তো কেউ কখনো ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রকাশ করে না। তারপরও আমি সময় মতো সবার সামনে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করে সবার সঙ্গে আনন্দ শেয়ার করতে চেয়েছি। কিন্তু যাদের আমি বিয়ে করেছি তাদের ভুলেই বিষয়টি বারবার বাজেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। যে কারণে অপুকে শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স দিতে বাধ্য হয়েছিলাম।
কিং খান বলেন, আমি পরিষ্কার করে একটা কথা বলতে চাই, আমি আসলে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পাবলিকের সামনে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। তাই নিজে এসব বিষয় গোপন রেখেছিলাম। কিন্তু আমি তো অপু কিংবা বুবলীকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলিনি। তারা কেন বিয়ে বা সন্তান জন্মের পরপরই সবাইকে তা জানায়নি। এটিও কি আমার অপরাধ।
উল্লেখ্য, শাকিব খান ২০০৮ সালের এপ্রিলে তাঁর সর্বাধিক সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাসকে গোপনে বিয়ে করেন। প্রায় ১০ বছর পর বাচ্চাসহ সেই খবর প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন অপু। আর তাতেই বেঁকে বসেন শাকিব, ২০১৮ সালে বিচ্ছেদ হয় এই তারকা দম্পতির। সাবেক এ যুগলের আব্রাম খান জয় নামে এক পুত্রসন্তান আছে।
