প্রকৃতিতে এখন শীতের আমেজ। বইতে শুরু করেছে উত্তুরে হাওয়া। বিকেল শেষে সন্ধ্যা হতেই আবছা কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি। গভীর রাতে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। ঋতুর পালাক্রমে শীত আসতে আরো কিছুদিন বাকি থাকলেও প্রকৃতির রহস্যময়তায় এখন আর ঋতু ক্যালেন্ডারের দিনক্ষণ গুণে গুণে আসে না। তারই আভাস চোখে পড়ছে বাংলার পথে প্রান্তরে।
ভোরের মিষ্টি আলো ধানক্ষেতের ওপর ছড়ানো শিশির কণা স্পর্শ করতেই মুক্তাদানার মতো চিক চিক করে ওঠে, হাটবাজারে টাটকা শাকসবজি, হাওরে অতিথি পাখির গুঞ্জন, ভোরে বৃক্ষে বৃক্ষে কুয়াশার রূপালি ফোঁটা, বৈকালিক মৃদু শীতল হাওয়া জানান দেয় ঋতুর পালাবদলে শীতের আগমনীবার্তা।
ছয় ঋতুর এই দেশে পৌষ ও মাঘ দুই মাস শীতকাল হলেও প্রকৃতিতে শীত হাজির হয় আরো আগে। অগ্রহায়ণ মাসেই হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করে। পৌষ-মাঘে হাড় কাঁপানো শীতে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে দুর্ভোগ দেখা দিলেও আবহমানকাল ধরে গ্রামীণ জনপদে শীতকাল হাজির হয় নানা বৈচিত্র্যের সম্ভারে।
শীতকালের প্রসঙ্গ উঠলেই মনে পড়ে যায় খেজুরের রস দিয়ে ভাপা পিঠা খাওয়া, সন্ধ্যা নামলেই খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুর পোহানো কিংবা মুক্ত আকাশের বুকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আনাগোনা আর রাতে লেপ জড়িয়ে ঘুমানোর স্মৃতি। শীতে গ্রামের প্রকৃতি হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। খালের ধারে বিস্তীর্ণ আবাদি জমিতে সবজি ক্ষেতের দৃশ্য গ্রামের রূপকে করে তোলে মোহনীয়। এ সময় হলদে বর্ণ ছড়িয়ে ফসলের মাঠ রাঙিয়ে তোলে সরষে ফুল।
আজ পয়লা কার্তিক। আবহমান বাংলায় ষ্ড়ঋতুর পরিক্রমায় ‘এলো ঐ হেমন্ত দিন…।’ শরতের পর কার্তিক-অগ্রহায়ণ মিলে হেমন্ত। নতুন এই ঋতুর আগমনে রূপ বদলায় প্রকৃতি। প্রকৃতির ম্লান, ধূসর ও অস্পষ্টতার অনুভূতি হানা দেয় চেতনলোকে। হেমন্তকে বলা হয় শীতের বাহন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এখন থেকে যত দিন যাবে ততই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমতে থাকবে। পার্থক্য যত কমবে তত শীত আসতে থাকবে। উত্তরের হিম হিম বাতাসে শুষ্ক হয়ে আসবে শরীর।





