আমরা বোরকা পড়ে হলে যেতাম আর মানুষ খুঁজত যে নায়ক-নায়িকা আসছে কিনা। আর এখন নায়ক নায়িকা হলে গিয়ে খুঁজে দর্শক আছে কি না? ক’দিন পরে এমন দেখতে হতে পারে যে, নায়ক-নায়িকা ছবির টিকেট হলের সামনে বেচতেছে, আর ঘোষণা দিচ্ছে, টিকেট কিনুন নায়িকার পাশে বসে ছবি দেখুন।
আমি যে প্রতিদিন রমনা পার্কে হাটতে যাই আমি পার্কের একজন সদস্যও বলা চলে বা নিজের পার্কও বলা যায়। তাও শুক্রবার অনেক লোক এসে দাঁড়িয়ে থাকে যে “নায়িকা নতূন” এখানে আসে, আজ আসবে, বিকালে গেলে মানুষ ভরে যায়।
এখন যদি বলি যে আমি আসবো শুক্রবার টিকেট সিস্টেম করেন, একজনও আসবে? না, কারণ ফ্রী দেখে বলে ছবি তুলে, বা এলেই দেখে তাই তাকায়। ছবির নায়ক-নায়িকা যদি, ছবি দেখতে হলে যায় মুখ খুলে। তাহলে মানুষ ফ্রীতে নায়ক-নায়িকা দেখতে হলে যায়।
ছবি দেখতে না, নায়ক-নায়িকা বা যে কেহ যদি একটু আয়োজন করে কোথাও যায় সেখানে এম্নেই লোক জমা হয় অনেক। আর নায়ক-নায়িকা শুনলে লোক বেশী হবে স্বাভাবিক, তাও শুক্রবার, মানুষ ফ্রী থাকে, তা আবার ভিডিও করে, কিন্তু তারা ক’জন ছবি দেখতে যায় তা মুখ্য বিষয়।
নায়ক-নায়িকা-পরিচালক হাক, ডাক দিয়ে যায় হলে হলে আর বলে ছবি হিট। পরে শুনি হলের লাইট- ফেন চালানোর টাকাই উঠে নাই। আবার সেদিন পত্রিকায় দেখলাম ১২ বছরে মাত্র ৮ ছবি হিট। কিন্তু ফেইসবুকে সব ছবি হিট। ফেইসবুকে যেহেতু ছবি হিট হয় তাহলে ছবি ফেইসবুকে রিলিজ দেয়াই ভালো।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ছবির প্রচারণায় আগে থেকে দেশের বিভিন্ন যায়গায় যাওয়া যায়, আরও নানা মাধ্যম আছে, কিন্তু রিলিজের দিন ৩/৪ হলে গিয়ে লোক জমা করে একদিনেই সুপারহিট বানায়ে পড়ে প্রযোজকের হাতে হাড়িকেন ধরায়ে দেয়া বোকামি। এবং একই সাথে নায়ক-নায়িকা সস্তা বানানোর ধান্দা। নায়ক-নায়িকার নিজস্বতা রাখা উচিৎ, সস্তা বানানো উচিৎ না।
(অভিনেত্রী নূতনের ফেসবুক থেকে নেওয়া)





