Home ফিচার বাঁচতে হলে লড়াই করেই বাঁচতে হয়: লতা সমাদ্দার

বাঁচতে হলে লড়াই করেই বাঁচতে হয়: লতা সমাদ্দার

0
114
প্রতীকী ছবি

‘টিপ পরা’ নিয়ে উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার। এ ঘটনায় শেরে বাংলা নগর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

ওই কলেজ শিক্ষিকার অভিযোগ- রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে হেঁটে কলেজে যাওয়ার সময় হুট করে পাশ থেকে মধ্যবয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ‘টিপ পরছোস কেন’ বলেই বাজে গালি দেন তাকে। মধ্যবয়সী ওই ব্যক্তির পরনে পুলিশের পোশাক। ঘটনার প্রতিবাদ জানালে একপর্যায়ে কলেজ শিক্ষিকার পায়ের ওপর দিয়ে বাইক চালিয়ে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এ ঘটনায় উত্তপ্ত সোশ্যাল মিডিয়া। সচেতন মহলের নাগরিকরা তাদের অবস্থান থেকে জানাচ্ছেন প্রতিবাদ। ইতোমধ্যে ওই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম নাজমুল তারেক। তিনি কনস্টেবল হিসেবে পুলিশের প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে টিপ ইস্যুতে পুরোদেশ যেভাবে প্রতিবাদে জেগে উঠেছে সেদিকে ইঙ্গিত করে শিক্ষিকা ড. লতা সমাদ্দার বলেছেন, ‘(হয়রানির শিকার হওয়ার সময়) আমি ছিলাম একা, কিন্তু এখন আমি একা না। আমার সাথে অসংখ্য মানুষ চান নারীরা নিরাপদে চলুক। যৌন হয়রানি বন্ধ হোক। এখন আমার মনে হচ্ছে, বাঁচতে হলে লড়াই করেই বাঁচতে হয়। অসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে লড়াই করে মৃত্যুও ভালো।’

গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. লতা সমাদ্দার বলেন, ‘পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ওই ব্যক্তি কামুক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। এগিয়ে জানতে চাইলাম, আপনি আমাকে ইভটিজিং কেন করলেন? ওই পুলিশ তখন জঘন্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে। আমি প্রতিবাদ করতেই সে বাইক স্টার্ট দিলো। আমি জাস্ট সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই। সরতে গিয়ে ভীষণভাবে আঘাত পাই পায়ে। তারপর সে যখন চলে যাচ্ছিল দ্রুত বাইকের নাম্বারটা মুখস্থ করি। এরপর পাশেই দায়িত্বরত তিনজন ট্রাফিক পুলিশকে গিয়ে জানালাম বিষয়টি। তারা আমাকে পরামর্শ দিলেন থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই ঘটনা।

তিনি বলেন, আমি তখন আমার কলেজে আসি। এসে ভাইস প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে কথা বলি। তিনি ও অন্যরা পরামর্শ দিলেন। এরপর শেরেবাংলা নগর থানায় গিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনার কথা জানালাম। ইভ টিজিং, যৌন হেনস্থা, আমাকে মেরে ফেলার যে চেষ্টা এবং যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমি যে ইনজুরড হয়েছি- সবটা অভিযোগ আকারে তুলে ধরেছি।

লতা সমাদ্দার আরও বলেন, আমি চাই নারীর প্রতি হয়রানি, যৌন হয়রানি বন্ধ হোক। যারা চান, এমন মানুষই বেশি। অল্প কিছু মানুষ আছেন যারা মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক চিন্তা করেন। তাদের জন্য যেন আমার সোনার বাংলাদেশ নষ্ট না হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here