কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শনকালে সবুজের আভায় উদ্ভাসিত হাওর উপভোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
সোমবার (২৮ মার্চ) বিকেলে তিনি একটি ব্রিজে বসে সবুজের আভায় উদ্ভাসিত হাওর দেখেন। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দৃষ্টিনন্দন হাসানপুর ব্রিজসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন-কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, মিঠামইন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতির বোন আছিয়া আলম, মিঠামইন সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শরীফ কামালসহ অন্যরা।
এর আগে রোববার রাতে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
এসময় তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল কীভাবে হাওরের উন্নয়ন করা যায়। যারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তারা যদি সঠিকভাবে কর্ম পরিচালনা করেন তাহলে এলাকার উন্নয়ন হবে। ১৯৫৯ সালে আমি নবম শ্রেণিতে পড়ি। ১৯৬১ সালে কলেজে ভর্তি হয়ে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন করি। পাকিস্তানি সরকার আমাকে ধরার জন্য মিঠামইনে আইসিও কেন্দ্র করে। ১৯৬৬ সালে গুরুদয়াল কলেজে জিএস নির্বাচিত হই। আমি যদি নিজের চিন্তা করতাম তাহলে অনেক বড় শিল্পপতি হতাম। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর দুই বছর দুই মাস আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানার ওসির কোনো দরবার করা ঠিক নয়, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আচার-বিচারের নামে অবিচার করবেন না। শান্তিতে থাকতে গেলে মিলেমিশে থাকবেন। এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে। বাল্যবিয়ে রোধ করতে হবে।
হাওরের উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, মরিচখালী থেকে ফ্লাইওভার করা হবে। মিঠামইন ক্যান্টনমেন্টের সঙ্গে সংযোগ রাস্তা করার পরিকল্পনা আছে। অন্যসব দাবি-দাওয়া পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে।
