দুটো কাজ নিয়ে এবার ‘শ্বশুরবাড়ি’ কলকাতা থেকে ‘বাপের বাড়ি’ ঢাকায় এসেছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। কাজ দুটি হলো—গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’ আর একুশের বইমেলায় এসেছে তাঁর নতুন বই ‘আফ্রিকায় সিংহের খোঁজে’। ‘কাজলরেখা’য় কঙ্কণ দাসীর চরিত্রে অভিনয় করবেন মিথিলা। এসব নিয়েই মিথিলার কথা হয়েছে গণমাধ্যমের সঙ্গে।
প্রশ্ন: আ রিভার ইন হেভেন নামের সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর কলকাতার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, সিনেমাটি পুরুষের বন্ধ্যত্ব নিয়ে। বিষয়টি অনেক পুরোনো হলেও আপনি অনেক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আপনার বিস্ময় দেখে মনে হয়েছিল অনেক ইউনিক একটি গল্প পেয়েছেন।
মিথিলা: এটা কিন্তু সত্যি, আমাদের সমাজে বন্ধ্যত্ব যে ছেলেদেরও থাকতে পারে, সেই জিনিসটা মানসিকভাবে মেনেই নেয় না কেউ। এটা পরিবার মেনে নেয় না, ছেলেরাও মেনে নিতে পারে না। এটায় পুরুষরা মনে করে যে এটা তাদের পৌরুষত্বে আঘাত করছে।
এ ছাড়া গল্পে আরও অনেক বিষয় আছে, যা মূলত আমাকে মুগ্ধ করেছে।
প্রশ্ন: বর্তমান সমাজে সন্তান না নেয়ার ইচ্ছাটাও বাড়ছে। নিজেদের কাজ, ইচ্ছা মেটানো, অর্থিক সচ্ছলতা মিলিয়ে সন্তান নেয়ার চাহিদা কমছে। এতে সেই কাপলের ওপর পারিবারিক চাপ বাড়ছে, দ্বন্দ্ব-অশান্তিও তৈরি হচ্ছে। এমন বিষয়ে সিনেমা হলে আপনার এ বিস্ময় প্রাসঙ্গিক মনে হতো।
মিথিলা: গল্পটা তো আমি লিখিনি, এটা রিঙ্গোদার লেখা। আপনি যে বিষয়টা বললেন, সেটা নেই, তবে এর ভেতর অনেক সোশিও পলিটিক্যাল ইস্যুজ আছে। গল্পে আরও অনেক লেয়ার আছে।
সেই কাপলের সন্তান হচ্ছে না এ জন্য যে তাদের মধ্যে ভালোবাসা নেই তা না। এর ভেতরে আরও অনেক সূক্ষ্ম বিষয় আছে, যেগুলো এখন বলতে পারছি না। সিনেমাটা দেখলে সবাই বুঝবেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের কলকাতায় গিয়ে কাজ করা, এটিকে কি আপনার কাছে বিশেষ কিছু মনে হয়? নাকি এমন মনে হয় যে, শিল্পী তো সবখানেই কাজ করতে পারে?
মিথিলা:আমার কাছে সে রকমই মনে হয়। শিল্পী তো শিল্পীই। বাংলাদেশ, কলকাতা, বলিউড, লন্ডন—সবখানেই শিল্পী কাজ করতে পারবে। শিল্পীর জন্য কাজের জায়গা বিস্তৃত হওয়া উচিত। তবে একটা বিষয় হয় যে, বড় ইন্ডাস্ট্রি, বেশি মানুষ জানবে, চিনবে সেটা হতে পারে। যেমন—শুধু বাংলাদেশে কাজ করছিলাম, এখন দুই বাংলাতেই করছি, বড় ইন্ডাস্ট্রি। এ ছাড়া অভিনেত্রী হিসেবে আমার অন্য কোনো ভ্যালু অ্যাড হয় বলে আমি মনে করি না।
প্রশ্ন: কলকাতায় কাজ করাটা কি আমাদের শিল্পীরা প্রমোশন হিসেবে দেখেন?
মিথিলা: সহজ কথায়, কলকাতায় অভিনয় করাটাকে আমি প্রমোশন হিসেবে দেখি না। ধরেন আমি ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার হলাম, কলকাতায় কাজ করাটা ওই রকম কোনো প্রমোশন না। তবে এটা ঠিক যে, আরও বেশি মানুষ যদি আমার কাজ দেখতে পায়, সেটা ভালো লাগার একটি বিষয়।





