বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার শপথ নেওয়ার একদিন পরই তাকে জয়ী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। ফলে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ক্ষমতা হারালেন তিনি।
সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নিপুণ আক্তারকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জয়ী করে আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।
এর আগে রোববার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনকে শপথ পাঠ করিয়েছেন সংগঠনটির প্রাক্তন সভাপতি মিশা সওদাগর। তিনি ছিলেন মিশা-জায়েদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী সমিতির অন্যান্য নির্বাচিত নেতাদের শপথ পাঠ করিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। অনেকেই মনে করছেন শপথ অনুষ্ঠানে মিশা সওদাগর যোগ দিয়ে কার্যত কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলকে সমর্থন দিয়েছেন।
এবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন মিশা সওদাগর। আজ সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমি জানতাম না গতকাল শপথ অনুষ্ঠান ছিল। আমাকে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই আসতে বলেছিলেন। তাকে সম্মান করি, তাই তার কথায় গিয়েছিলাম। আসার পর বললেন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে যেহেতু ঝামেলা আছে শপথ পড়াতে হবে। তাই শুধু ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইকে শপথ পড়িয়েছি। নিপুণসহ অন্যদের শপথ পড়াইনি। সেখানে যাওয়ার পর আলমগীর ভাইসহ অনেকেই ছিলেন। শপথে না যাওয়ার কোনো কারণ নেই।
আপনি সভাপতি পদে পরাজিত হয়েছেন এটা নিয়ে কোনো অভিযোগ আছে?, জানতে চাইলে মিশা সওদাগর বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আগেই বলেছিলাম পরাজিত হলেও কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করব। দিন শেষে আমরা তো শিল্পী। তারপর অন্যকিছু।
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পর সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে অনেক ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
মিশা সওদাগর বলেন, বিষয়টা এখন আইনের হাতে চলে গেছে। এটা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। আশা করি একটা সুষ্ঠু সমাধান আসবে। আমার ব্যক্তিগত কোনো অভিমত নেই। আশা করছি জলদি সমাধান আসবে। আমরা চলচ্চিত্রের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এর প্রাথমিক ফলাফলে জয়ী হন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। পরে (শনিবার) আরেক প্রার্থী নিপুণ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আবেদন করলে জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে আপিল বোর্ড।
শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনের আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান এক সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে নায়িকা নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন।





