Home জলবায়ু ও পরিবেশ এবার শীতকাল হবে ব্যতিক্রমী, নেপথ্যে মেঘ-বাতাসে লড়াই!

এবার শীতকাল হবে ব্যতিক্রমী, নেপথ্যে মেঘ-বাতাসে লড়াই!

0
334

নজর২৪ ডেস্ক- দ্বিমেরুর প্রভাবে অন্যান্য বছরের শীত মৌসুমের চেয়ে এবারের শীতকাল কিছুটা ব্যতিক্রমী হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলে সৃষ্ট উষ্ণ মেঘের সঙ্গে হিমালয় থেকে আসা শীতল বাতাসের লড়াই।

 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবার শীতকালেও মূল ভূখণ্ডের চেয়ে দক্ষিণে থাকা বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলবর্তী সাগরে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে ফুটন্ত পানিতে ধোঁয়ার মতো ঘন মেঘ তৈরি হচ্ছে।

 

এর বিপরীতে উত্তরে থাকা হিমালয় থেকে অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শীতের প্রকোপ বাড়িয়ে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হচ্ছে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে, কিন্তু তা বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। সবমিলিয়ে এবার একটু ব্যতিক্রম লাগছে শীতকাল।

 

এর নেপথ্যে রয়েছে উত্তরের হিম বাতাসের সঙ্গে দক্ষিণের উষ্ণ মেঘের লড়াই। চলতি মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহে মেঘের উত্তাপ ছড়ানোর বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। নতুন এই পরিস্থিতি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ভারত মহাসাগরে দ্বিমেরু পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এমনটি ঘটছে।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, মূলত মিয়ানমার ও ভারতের পূর্বাঞ্চলের জলসীমায় সৃষ্টি হওয়া মেঘ বাংলাদেশের ওপরে আসছে। এ জন্য আগামী দু-এক দিন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শীত কমবে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে হিমেল হাওয়ার প্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তাই সেখানে শীত ও শৈত্যপ্রবাহ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক সমুদ্রবিজ্ঞানী সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বঙ্গোপসাগরে তাপমাত্রা বাড়ছে। দ্বিমেরু প্রভাব তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। এর প্রভাব আবহাওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়ছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে পঞ্চগড় ছাড়া দেশের আর কোথাও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি, অর্থাৎ শৈত্যপ্রবাহের তাপমাত্রা ছিল না। তবে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here