রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: গভীর রাতে বসত বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির সদস্যদের বেধে ও ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে নগদ ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ডাকাত দলের ৭ সদস্য সদস্যের হাতে ধাড়ালো ছুড়ি ও শাবল ছিল।
দুর্ধর্ষ এই ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে (বৃহস্পতিবার) ৭ অক্টোবর দিবাগত রাত প্রায় দেড়টায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের কাদাই বাদলা গ্রামের প্রকৌশলী আব্দুল মোত্বালিবের বাড়িতে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মোত্বালিব জানায়, বাড়ির সবাই রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ি। রাত আনুমানিক দেড়টায় আমাদের দোতলা ভবনের নিচ তলার উত্তর দিকের জানালার পাল্লা শাবল দিয়ে সড়িয়ে দড়জা খুলে ডাকাত দলের ৭ সদস্য ভবনে প্রবেশ করে।
প্রথমে ছোটভাই আব্দুল মান্নাফের ঘরে ঢুকে তাকে বেধে ফেলে এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে রক্ষিত নগদ ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেয়। পরে বৃদ্ধা মায়ের ঘরে ঢুকে টাঙ্ক ভেঙে নগদ টাকা ও তার স্বর্ণালঙ্কার নেয়।
তারপর তাদের মধ্য থেকে ৪ জন দোতলায় প্রকৗশলী আব্দুল মোত্বালিবের রুমে প্রবেশ করে ধমক দিয়ে তাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা বড় ছোড়া দিয়ে জবাই করার ভয় দেখিয়ে বলে প্রাণে রক্ষা পেতে হলে যেখানে যা আছে আমাদের দিয়ে দিন।
তখন তার স্ত্রীর কাছ থেকে ওয়ারড্রবের চাবি নিয়ে নগদ ১০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেয়, পরে তার ছেলে মেয়ে সহ ৪ জনকে নিচ তলায় নিয়ে যায়। সেখানে ডাকাত দলের আরো ৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিল। পরে ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের সবাইকে একটি রুমে আটকিয়ে চলে যায়।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে একই গ্রামের আলহাজ্ব হাসান শহীদের বাড়িতে গভীর রাতে চেতনানাশক স্প্রে করে বাড়ির সবাইকে অচেতন করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা সহ প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা সমমূল্যের মালামাল লুট করার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার এখন পর্যন্ত কোন সুরাহ হয়নি।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে এসআই রবিউল ও এএসআই পীযুষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আমরা ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার ও লুটকৃত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।





