নজর২৪ ডেস্ক- মাদক মামলায় কারাগারে থাকা পরীমনি ভালো আছেন বলে জানিয়েছে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ কয়েদিদের যেসব খাবার-দাবার এবং সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়, এই অভিনেত্রীকেও তাই দেয়া হচ্ছে। খবর- নিউজ বাংলার
দুই দফায় রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার পরীমনিকে কারাগারে পাঠায় আদালত। নিয়মানুযায়ী, কারাগারে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন সেলে রাখা হয়েছে তাকে।
আদালত পরীমনিকে ডিভিশন দেয়ার আদেশ দিলেও এ বিষয়ে কাগজপত্র এখনও কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়নি। তাই পরীমনিকে সাধারণ বন্দিদের সেবাই দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সিনিয়র জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব-মহিলা কারাগার) মো. আব্দুল জলিল।
রোববার বলেন, ‘পরীমনিকে কারাগারের কোয়ারেন্টিন সেন্টার রজনীগন্ধা ভবনে রাখা হয়েছে। তাকে ডিভিশন দেয়ার আদেশ এখনও আমরা পাইনি। ১৪ দিন পর তাকে আমরা সাধারণ বন্দিদের সেলে দিয়ে দেব।’
পরীমনির খাবারের তালিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল জলিল বলেন, ‘তিনি এখনও কোনো ডিভিশন পাননি, সাধারণ বন্দি হিসেবেই আমাদের এখানে এসেছেন। তাই সাধারণ বন্দিদের মেন্যু ফলো করা হচ্ছে।’
সিনিয়র এই জেল সুপার জানান, সাধারণ বন্দিদের জন্য সকালের খাবার হিসেবে দেয়া হয় রুটি বা পাউরুটি, চিনি বা গুড়, ডাল, দুধ, ডিম, জেলি বা মাখন, কলা ও চা।
দুপুরের খাবার হিসেবে দেয়া হয় ভাত কিংবা রুটি, মাছ বা মাংস, শাকসবজি ও ডাল এবং রাতের খাবার হিসেবে দেয়া ভাত বা রুটি, মাছ বা মাংস, শাকসবজি ও ডাল।
পরীমনি কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস চাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে আব্দুল জলিল বলেন, ‘তিনি কারাবিধি অনুযায়ী যা যা পাবার কথা সব সুবিধাই পাচ্ছেন। এর বাইরে যাবার কোনো সুযোগ নেই। বিধির বাইরে কিছু চাইলেও পাবেন না।’
কারাগারে আসার পর পরীমনির সঙ্গে পরিবার ও স্বজনদের দেখা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে আব্দুল জলিল বলেন, ‘করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে আমাদের এখানে নতুন বন্দি এলে ১৪ দিন কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই। তাই এখন তার পরিবারের সদস্যরা হয়তো আসতে পারেন, কিন্তু দেখা করা যাবে না।’
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র্যাব সদরদপ্তরে। ওইদিন রাতভর সেখানেই থাকতে হয় পরীমণিকে।
পরদিন বৃহস্পতিবার র্যাব-১ বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এরপর সেদিনই তাকে আদালতে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বনানী থানা পুলিশ। এরপর দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।
এই রিমান্ড শেষে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে বন্দি রাখার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করে। এমন পরিস্থিতিতে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে গত শুক্রবার (১৩ আগস্ট) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডলের আদালতে এই জামিনের আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই নায়িকা পরীমণিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।





