নজর২৪ ডেস্ক- করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যেই তুলে দেয়া হয়েছে সরকারি বিধিনিষেধ। চালু হয়েছে গণপরিবহন। খুলেছে বিপণি বিতান। ভিড় বেড়েছে সড়কে-মার্কেটে। রাজধানীর রাস্তায় দীর্ঘ যানজট। কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা গেছে মহাসড়কে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে সব খুলে দেয়া হলেও বাসে-লঞ্চে সেই আগের চিত্রই ফিরে এসেছে। মার্কেটে মানুষের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে না দেশে করোনার অতি উচ্চ সংক্রমণ বিরাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।
গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, পল্টন, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে বেড়েছে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ। সিগন্যালগুলোতে দেখা গেছে যানজট। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন চলাচলের কথা থাকলেও সেসব মানা হচ্ছে না। অধিকাংশ বাসই যাত্রী পূর্ণ করে ছাড়তে দেখা গেছে।
স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই যাত্রীরা উঠানামা করছেন বাসগুলোতে। যাত্রীদের মাস্ক থাকলেও অধিকাংশ বাসের চালক ও সহকারীর মুখে ছিল না কোনো মাস্ক। বাসে ছিটানো হচ্ছে না কোনো প্রকার জীবাণুনাশক দ্রব্য। ব্যবহার নেই হ্যান্ডস্যানিটাইজারেরও। নির্ধারিত ৬০ শতাংশের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ তুলেছেন অধিকাংশ বাসের যাত্রীরা।
এদিকে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ দেখা গেছে দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চে। টানা ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর ফিরছে আগের রূপে এসব পরিবহন। টার্মিনালগুলো এখন ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে উৎসবমুখর।
মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী, গুলিস্তান ও আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল থেকে অর্ধেকের বেশি যাত্রী নিয়ে বাস ছেড়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশ্যে। নৌপথে বাড়ি ফিরতে সদরঘাটে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ভিড় করছেন। সকাল থেকে একের পর এক ছেড়ে গেছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় টার্মিনাল কিংবা পন্টুনে মানা হচ্ছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব।
অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা মানছেন না লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় লঞ্চেই গাদাগাদি করে যাত্রী নেয়া হয়েছে। চাঁদপুরগামী প্রতিটি লঞ্চে পাশাপাশি সিটে ও ডেকে বসে যাত্রী নিতে দেখা গেছে। বিকালে বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালীগামী লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঘাট থেকে ছেড়ে গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশ টহলে থাকলেও তাদের সামনেই মাস্ক ছাড়া ঘুরাঘুরি করছেন যাত্রীরা।
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। কঠোর লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনে সকাল থেকে বিপণি বিতানগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। গাদাগাদি করে ক্রেতারা শপিংমলে প্রবেশ করছেন। স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা না করে কেনাকাটা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা।
বিক্রেতাদেরও নেই কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতা। মার্কেটে নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থাও। ক্রেতাদের চাপ বাড়ায় ছিল না কোনো সামাজিক দূরত্বের বালাই। ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকের মুখে মাস্ক থাকলেও কেউ কেউ আবার নাক থেকে সরিয়ে থুতনিতে রেখেছেন। করোনার ঝুঁকির মধ্যেও বড়দের সঙ্গে দেখা গেছে বয়স্ক ও ছোট শিশুদের। তবে মাস্ক ছাড়াও কেনাকাটা করতে দেখা গেছে অনেককে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। নেই হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার করার কোনো সুব্যবস্থা। দোকানিদের অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার না করেই নাকে-মুখে হাত দিচ্ছেন অনেকে। একজনে একাধিক পোশাক শরীরে জড়িয়ে দেখছেন। ক্রেতারা ভিড় ঠেলে এক দোকান থেকে যাচ্ছেন অন্য দোকানে।





