Home কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য ঈদের পরও পোশাক কারখানা খোলা রাখতে চান মালিকেরা

ঈদের পরও পোশাক কারখানা খোলা রাখতে চান মালিকেরা

0
87

নজর২৪ ডেস্ক- করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিন সব ধরনের শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সরকারের এই নির্দেশনায় রফতানিমুখী শিল্পকারখানা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই তারা ঈদের পর সরকার ঘোষিত লকডাউনে পোশাক খাত খোলা রাখতে সর্বাত্মক তদবির চালাচ্ছে।

 

এরই অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে গার্মেন্টস কারখানা খোলা রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আবেদন করছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। এরই মধ্যে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন তারা।

 

এর আগে বুধবার (১৪ জুলাই) রাতে বিজিএমইএর গুলশান অফিসে জরুরি বৈঠক করেছেন তৈরি পোশাক খাতের মালিকরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে করেই হোক লকডাউনে রফতানিমুখী কারখানা খোলা রাখতে হবে। বৈঠকে সব ব্যবসায়ী এক সুরে বলেছেন, কারখানা বন্ধ হলে ব্যবসা হারানোর পাশাপাশি বহুমুখী সংকটে পড়বে তৈরি পোশাকশিল্প।

 

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন রফতানিমুখী শিল্প মালিকরা। দুপুর ৩টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে থাকবেন সংগঠনটির সাবেক নেতারাও।

 

বিজিএমএই’র সহ সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, গার্মেন্ট সেক্টর মাত্রই ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলো। করোনার মধ্যে রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। সেখান থেকে আমরা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলাম। কিন্তু এই মুহূর্তে আবারো যদি বন্ধ করে দিতে হয়, যখন ইউরোপের দেশগুলোতে খুলে দেয়া হচ্ছিলো; এ অবস্থায় আমরা যদি তাদেরকে পণ্য না দিতে না পারি, তাহলে তারা অন্য কোথাও থেকে পণ্য নিয়ে নেবে। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবো। রপ্তানি খাত যদি আবারো এমন ক্ষতির মুখে পড়ে তাহলে দেশের অর্থনীতিতেও ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

তিনি বলেন, জুন-জুলাই-আগস্ট এই তিন মাস ছিল আমাদের গার্মেন্ট সেক্টরের পিক এক্সপোর্ট টাইম। সারা বছরে যা এক্সপোর্ট করি, তার চেয়ে বেশি করি এই তিন মাসে। এই তিন মাসে আমরা শীতের পোশাকগুলো বেশি পাঠাই। এগুলোর দাম অনেক বেশি থাকে। এখন এগুলো আটকা পড়ে গেলে তো আমাদের জন্য খুবই মুশকিল হবে। ৩০ তারিখ পর্যন্ত যদি বন্ধ থাকতো তবুও একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকতো। কারণ আমরা তো ঈদের ছুটি হিসেবে ২৫-২৬ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ এমনিই দিতাম। সেখান থেকে হয়তো আর ৪-৫ দিন আমরা সেক্রিফাইস করতাম।

 

কিন্তু ৫ তারিখ পর্যন্ত অনেক বেশি হয়ে যায়। আর ৫ তারিখ পর আবার শুক্রবার শনিবার। এই দুইদিনও বন্ধ রাখতে হবে। সবমিলিয়ে অন্তত ১৮-১৯ দিনের মতো কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটানা এতদিন গার্মেন্ট বন্ধ থাকলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ সেক্টরটি মাত্রই ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলো। এই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত মোটেও ঠিক হয়নি বলেও জানান বিজিএমইএ সহ- সভাপতি।

 

তিনি বলেন, এভাবে লকডাউন দিয়ে একবার শিথিল করা আবার কঠোর করা এটা আসলে বাস্তবসম্মত হয়নি। এতে সংক্রমণ আরও বাড়বে, কমবে না। কারণ আমাদের বেশির ভাগ শ্রমিকরাই উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের। কারখানা বন্ধ থাকলে সবাই গ্রামে চলে যাবে, আবার তারা ঢাকায় আসবে, এতে করোনা আরও ছড়াবে। এটা না করে সবাই যদি এক জায়গায় থাকতো, লকডাউন চলমান থাকলে ঈদের ছুটিতেও শ্রমিকরা ঢাকায় থাকতো ভিড় করে সবাই গ্রামে যেতো না। তখন সংক্রমণ কম হতো। এখন তারা গ্রামে যাবে তারপর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আনবে। তখন সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

 

এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, এক কথায় গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হলে সংকট আরও বাড়বে। শ্রমিকরা গ্রামে-গঞ্জে ফিরে যাবে, দেখা যাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ফিরছে।

 

তিনি বলেন, করোনার প্রকোপ রোধে শ্রমিকদের বাঁচাতে হলে কারখানা খোলা রাখতে হবে। তারা কাজে থাকলে অযথা ঘোরাফেরা করবেন না। ফলে তারা করোনা থেকে মুক্ত থাকবেন।

 

নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা বসে ছিলাম। সেখানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও রফতানিমুখী সব সংগঠনগুলোর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সেখানে আলোচনা হয়েছে কারখানা বন্ধ হলে রফতানি খাতে কি ধরনের প্রভাব পড়বে, শ্রমিকদের উপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে, করোনা সংক্রমণে কি ধরনের প্রভাব পড়বে। আর কঠোর লকডাউনের মধ্যে কারখানা খোলা রাখলে কি কি সুবিধা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে একটি আবেদন দিবো।

 

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কারখানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকলে অনেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবেন। কারণ, মহামারিতে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এসেছে। প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। কারখানা বন্ধ থাকলে সবকিছুই হুমকিতে পড়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here