ঈদে শ্রমিকদের ছুটি ৩ দিন: প্রতিমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, সরকারি নিয়ম অনুসারে তৈরি পোশাকসহ সকল কারখানা শ্রমিকের ঈদের ছুটি তিন দিনই থাকবে। এ ক্ষেত্রে কারখানা মালিকরা ইচ্ছা করলে আরও বেশি দিন ছুটি দিতে পারেন। এটা মালিক ও শ্রমিকদের ব্যাপার।

 

তবে ঈদের ছুটির আগের দিন অর্থাৎ ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে সকল শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করতে হবে। বেতন-বোনাস পরিশোধে ব্যর্থ হলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে।

 

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর শ্রম ভবনের সভাকক্ষ আরএমজি বিষয়ক পরামর্শ পরিষদের ১০ম সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহজাহান খান, তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি নাসির উদ্দিন ও পরিচালক হারুন উর রশিদ, বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি, কামরুল হাসান ও নাজমা আকতার উপস্থিত ছিলেন।

 

বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বলেন, এর আগে মন্ত্রণালয় নিজ উদ্যোগে শ্রমিকের বেতন-বোনাস আদায় করেছে। ইতোমধ্যে বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে। অধিকাংশ কারখানাই শ্রমিকদের বেতন দিয়েছে। কিছু কারখানা বাকি আছে। তারা একই সঙ্গে বেতন-বোনাসও দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব কারখানাকে ছুটির আগেই শ্রমিকের বোনাস পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে বোনাস পরিশোধ করেই কারখানা ছুটি দেবেন মালিকপক্ষ।

 

কারখানায় ছুটি ও পরবর্তী বন্ধ বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা অন্যবারের চেয়ে ভয়াবহ। এর আগে মৃত্যু ও আক্রান্ত কম ছিল, এবার তা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এ অবস্থায় এবারের ঈদে কারখানার শ্রমিকরা বাড়িতে যাবেন বলেই মনে হচ্ছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জারি করা সরকারি এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঈদের পর আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য সব কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলমান কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সময়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকা, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

 

এরপর বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। এই কঠোর বিধিনিষেধে সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *