নজর২৪ ডেস্ক- আন্দোলন ইস্যুতে ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি। বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি দেওয়ার আগে তৃণমূলকে প্রস্তুত করতে চায় দলটি। তাই এবার জাতীয় ও স্থানীয় নানা সমস্যা নিয়ে মাঠে নামতে সব সাংগঠনিক জেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ-পানির দাম বাড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে ব্যর্থতা, স্থানীয় রাস্তা-ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মসহ জনসম্পৃক্ত নানা ইস্যুতে কর্মসূচি পালন করতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক জেলা শাখা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি শুরুও করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়েছে। স্থায়ী কমিটি মনে করে করোনা পরিস্থিতিকে এখন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে সরকার। দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি করোনার অজুহাতে বছরের পর বছর কর্মসূচি গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। সরকারের নানা অনিয়ম, অত্যাচার, দুর্নীতিসহ সব অন্যায়ের প্রতিবাদে বিএনপির কাছেই কর্মসূচি প্রত্যাশা করে জনগণ। তাদের প্রত্যাশা পূরণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছেন, স্থানীয়ভাবে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ এরই অংশ।
জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্থানীয়ভাবে যে দাবি-দাওয়া আছে তা বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিকে বলা হয়েছে। তারা এগুলো নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পানি-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, করোনার টিকা আনা যাচ্ছে না-এসব ইস্যুতে কর্মসূচি থাকবে।
বিএনপি নেতারা বলেন, এবারের কর্মসূচি হবে জনসম্পৃক্তমূলক। বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াবে নেতাকর্মীরা। তাতেও বাধা দিলে স্থানীয় পর্যায়ে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হবে। সরকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা যাবে।
জানা গেছে, এবারের আন্দোলন ও কর্মসূচি একটু ভিন্নধর্মী হবে। দল কিংবা দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মুক্তি কিংবা দেশে ফেরানোর দাবি প্রাধান্য না দিয়ে জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজপথের এই বিরোধী দল। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা, বেঁচে থাকার সংগ্রাম, বৈষম্য, অর্থনৈতিক দুর্দশা, বঞ্চনার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। দ্রব্যমূল্য সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে যাওয়া, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মাঠে নামবে বিএনপি। পাশাপাশি কর্মসূচিতে থাকবে গণতন্ত্র ‘পূণরুদ্ধার’ ও দলীয় নেত্রীর স্থায়ী মুক্তির দাবি।
এবারের কর্মসূচির বাস্তবায়নও হবে ভিন্নভাবে। আগে কেন্দ্র থেকে কর্মসূচি দিলে তৃণমূল বাস্তবায়ন করত। এবার তৃণমূল তথা জেলা-মহানগর কমিটি কর্মসূচি দিয়ে রাজপথ থাকবে। কেন্দ্র সেগুলো মনিটরিং করবে।
বিএনপি নেতারা মনে করছেন করোনাকাল এই সরকারের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে। এই জুঁজুঁ দেখিয়ে সরকার সব ধরণের ঘরোয়া কর্মসূচিও বন্ধ রেখেছিল দীর্ঘদিন। আবারও বিধি নিষেধ দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি করোনার কারণে নামসর্বস্ব কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপলব্ধি এভাবে চললে কোনোদিনই ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ রাজপথ। সেই পথ-ই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের।





