নজর২৪ ডেস্ক- কারাগারে থাকা হেফাজত নেতাকর্মীদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে খোদ কারাগারের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরা। হেফাজত নেতাদের দেখভাল করা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও বিশেষ খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিধিবর্হিভূতভাবে তাদের এই সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হেফাজতের এক নেতার সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কারারক্ষীর এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। গণমাধ্যমের কাছে সেই ফোনালাপ সংরক্ষিত রয়েছে। খবর- বাংলা ট্রিবিউনের
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফাঁস হওয়া ফোনালাপের এক প্রান্তে কথা বলছিলেন হেফাজত নেতা ও মামুনুল হকের ঘনিষ্ঠ মাওলানা শরীফ এবং অপরপ্রান্তে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী রেজাউল।
ওই ফোনালাপে শোনা যায়, কারারক্ষী রেজাউল ও মনিরুজ্জামান কারাগারে থাকা হেফাজত নেতাদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে আসছেন। একইসঙ্গে নতুন যারা কারাগারে যাবেন তাদেরও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা জানান।
জানা গেছে, কারাগারের যে মোবাইল নাম্বার থেকে হেফাজত নেতার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, সেটি সরকারি নাম্বার। ওই নাম্বার থেকে সাধারণত কারাগারের ভেতরে থাকা বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাকার বিনিময়ে কারাগারে থাকা বন্দিরা অনেক সুবিধা নিয়ে থাকে। একশ্রেণির দুর্নীতিগ্রস্ত কারারক্ষী ও কর্মকর্তাদের কারণে জেলখানার ভেতরে বিধি অনুযায়ী যাদের যা পাওয়ার কথা নয়, তারা তা পেয়ে থাকে। এমনকি জেলখানার ভেতরে বন্দিরা হর-হামেশাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি তারা এমন কয়েকজন জঙ্গি ও ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করেছিলেন, যারা নিয়মিত জেলখানায় তাদের শীর্ষ নেতাদের ডাকাতি করা অর্থ পাঠাতো। এমনকি জেলখানার ভেতরে থাকা তাদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে কথাও বলতো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, নাশকতার অভিযোগে সম্প্রতি হেফাজতের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের কাউকে কাউকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হেফাজতের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এখন তারা যদি কারাগারে গিয়েও বিশেষ সুবিধা পায় কিংবা বিশেষ করে নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুবিধা পায়, তাহলে তারা ভেতরে থেকেই আবারও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পাঠকদের জন্য ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিচে তুলে দেওয়া হলো—
কারারক্ষী: শরীফ ভাই, আসসালামুআলাইকুম
হেফাজত নেতা: ওলাইকুম আসসালাম, কে?
কারারক্ষী: আমি ঢাকা কারাগার থেকে বলছি, রেজাউল। চিনতে পারছেন তো?
হেফাজত নেতা: হ্যাঁ, হ্যাঁ, চিনছি।
কারারক্ষী: ভালো আছেন তো?
হেফাজত নেতা: জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ।
কারারক্ষী: এইখানে তো হেফাজতের নতুন নতুন অনেক লোক আইছে, বুঝেন নাই?
হেফাজত নেতা: জ্বি।
কারারক্ষী: মনিরুজ্জামান আছে না। জেলখানায় আছে যে।
হেফাজত নেতা: হ্যাঁ।
কারারক্ষী: আমি এইমাত্র কথা বললাম।
হেফাজত নেতা: ওদের সহযোগিতা করেন, যতটুকু পারেন।
কারারক্ষী: আল্লাহর রহমতে… দোয়া…দোয়া, তাদের প্রাথমিক যেগুলো প্রয়োজন কাপড়চোপড়…খাবার-দাবার হ্যাঁ
হেফাজত নেতা: এখানে কয়জন আছে জানায়েন আমারে। এইটা অ্যাসেনশিয়াল। আমি তো ফোন রিসিভ করি না। হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়েন।
কারারক্ষী: বুঝি নাই।
হেফাজত নেতা: আমার ফোন তো ট্র্যাক হয়।
কারারক্ষী: আর কোনও নাম্বার আছে।
হেফাজত নেতা: আচ্ছা, আছে। অন্য নাম্বার আপনাকে দিচ্ছি। নাম্বারটা কীভাবে দেবো আপনাকে। বললেও তো সমস্যা।
কারারক্ষী: আপনার সঙ্গে তো যোগাযোগ করতে হবে। কীভাবে কি করবো। এখানে অনেক লোকজন আছে তো, নতুন লোক। আমি এই নাম্বার রাখলাম। এই নাম্বারে অন্য একটা নাম্বার দিয়া যোগাযোগ করবো।
হেফাজত নেতা: ওকে।
কারারক্ষী: আপনি মনিরের নাম্বার দিয়েন। মনিরকে দিলে আমি পামু।
হেফাজত নেতা: ওকে ওকে।
কারারক্ষী: দোয়া কইরেন ঠিক আছে। এখানে যারা আসতেছে হেফাজতের খুঁইজা খুঁইজা বের করতাছি। তাদের দেখাশোনা….আল্লাহর রহমতে করতেছি।
হেফাজত নেতা: ওকে ঠিক আছে।
বিষয়টি জানিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবশ্যই খতিয়ে দেখবো।’ এসময়য় প্রতিবেদকের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করেন।
