নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি অভিজাত রিসোর্টে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’কে নিয়ে অবস্থান করার সময় অবরুদ্ধ হয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।
মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় একজন নারী মামুনুল হকের স্ত্রীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন এবং তিনি সেসব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। কথোপকথনের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
: আপনার নাম কী?
:: জান্নাত আরা ঝর্না
: আপনার বাবার নাম?
:: ওয়ালিউর রহমান।
: বাড়ি কোথায়?
:: ফরিদপুর, ভাঙ্গা থানায়… আলফাডাঙ্গা থানা
: একটু আগে বললেন ভাঙ্গা থানায়।
:: না, ভাঙ্গা থানায় না, ভুল হয়ে গেছে।
: আপনি মামুনুল হক সাহেবের সেকেন্ড ওয়াইফ না?
:: হ্যাঁ
: আপনাদের কোনো বেবি নেই?
:: না
: মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রীর কয়জন সন্তান?
:: চারজন
: মেয়ে নেই?
:: না।
: এখানে কখন এসেছেন?
:: আজ জোহরের পরে
: এর আগে কোথায় ছিলেন?
:: বাসায় ছিলাম
: বাসা কোথায়, কোন বাসায়, ঢাকায়?
:: জি
: ঢাকায় বাসা কোথায় আপনাদের
:: মোহাম্মদপুর
: মোহাম্মদপুর কোথায়?
:: মোহাম্মদপুর ওখানে বাসা
: এখানে কি বেড়াতে এসেছিলেন নাকি থাকতে এসেছিলেন?
:: বেড়াতে এসেছিলাম
: কোথায় বেড়াতে এসেছিলেন?
:: না এখানেই এসেছিলাম, রেস্টে
: বাসায় রেস্ট করার যায়গা নেই?
:: অবশ্যই আছে। বাসায় কি সবাই সব সময় রেস্ট করে? বাহিরে কেনো যায়, দেশের বাহিরেওতো যায়, যায় না?
: হ্যাঁ, দেশের বাহিরে যায়, কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে যায়
:: এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে দেখতেই আমরা এখানে এসেছি। একটু রেস্ট করেই চলে যাবো।
: হঠাৎ করে সোরগোল কেনো হলো, বা কী করে সবাই জানলো?
:: আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না
: আপনি বাথরুমে কেনো আসলেন?
:: অ্যাকচ্যুয়ালি অনেক মানুষ তাই
: আপনার তো হাসবেন্ড
:: আমার হাজবেন্ড ঠিক আছে। বাট আমার হাজবেন্ড তো অন্য আট-দশজনের মতো সাধারণ কেউ না, আমি সবার সামনে যেতে পারি না তাই
উল্লেখ্য, বিকালে সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন মামুনুল হক।
মামুনুল হক অবরুদ্ধ এমন খবর শুনে সেখানে সন্ধ্যার পর জড়ো হতে থাকেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে রয়েল রিসোর্টে হামলা চালিয়ে মামুনুল হককে নিয়ে যান তারা।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোশাররফ হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামুনুল হককে থানায় নেওয়ার পথে রিসোর্টে হামলা চালান হেফাজতের কর্মীরা। পরে মামুনুল হককে নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান হেফাজতের কর্মীরা। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে সন্ধ্যায় মুক্ত হয়ে হেফাজত কর্মীদের উদ্দেশে মামুনুল বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সাংবাদিক ও পুলিশ আমার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করেনি। কিছু বাইরের লোক খারাপ আচরণ করেছে। আমি আমার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম। আপনারা শান্ত থাকুন।’
পরে রাত ৯টার দিকে তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপদে আছি, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক! কেউ কোনো গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না !!’





