নজর২৪, সিলেট- আগামী ১০-১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছিলো রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামী আন্দোলনের সহযোগী সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সিলেট বিভাগীয় শাখা।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের বক্তব্য রাখার কথা ছিলো। তবে এ ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি দিয়ে সেটি বাতিল করেছে পুলিশ প্রশাসন।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে-কে সোমবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জানান ইসলামী আন্দোলনের সিলেট মহানগর শাখার সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান।
প্রতিবছরের মতো এবারও সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সিলেট বিভাগীয় শাখা। তবে এবারের ওয়াজ মাহফিল ঘিরে উত্তেজনার তৈরি হয়। মাহফিলের প্রধান অতিথি মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করীমের ভাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
এরই জের ঘরে রোববার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট ছাত্রলীগের ব্যানারে বের করা একটি মিছিল থেকে নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের পাশে নির্মিত ওয়াজ মাহফিলের তোরণে লাগানো ব্যানার ছিঁড়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সৃষ্ট অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রোবাবর রাতেই মাহফিলের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে মর্মে আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দেয় সিলেট মহানগর পুলিশ।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যা তাহের বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে পুলিশ কমিশনার মহোদয় বিশেষ ক্ষমতাবলে এই মাহফিলের অনুমতি বাতিল করেছেন।’
ইসলামী আন্দোলনের সিলেট মহানগর শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, ওয়াজ মাহফিলে নিরাপত্তা দিতে তারা ব্যর্থ, তাই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামী আন্দোলন সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে সরগরম সারা দেশ। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুর। সেই ভাংচুরের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারও করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটক সবাই বলেছে মামুনুল-ফয়জুলদের বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা ভাস্কর্য ভাংচুর করেছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ জোনায়েদ ওরফে জুনায়েদ বাবুনগরী ও সৈয়দ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলাটি করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
