সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: দরজায় কড়া নাড়ছে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। আর মাত্র দুইদিন বাকী। ভালোবাসার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ না থাকলেও তরুণ-তরুণীরাই ভালোবাসার মানুষকে আকৃষ্ট করতে এই দিনটিকে বেছে নেয়।
ভালোবাসা দিবসে ভাব বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ফুল। আর ফুল মানেই যেন গোলাপ। গোলাপ বেশি দামে বিক্রি করতে ব্যবসায়ীরা বাগানের গোলাপ উত্তোলন বন্ধ করে দিয়ে দিবসটির জন্য বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে বাগানেই সংরক্ষণ করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় একটি বাগানে গোলাপ সংরক্ষণের অভিনব কৌশল। বিশেষ দিনের আগে গোলাপ যেন ফুটে ঝরে না যায় সে জন্য ফুটন্ত কুঁড়িতে পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ ক্যাপ। এতে গোলাপের কুঁড়ি বড় হবে কিন্তু ফুল ফুটে পাঁপড়ি ঝরে পড়ার সুযোগ পাবে না। এভাবে এক মাস পর্যন্ত গোলাপ সংরক্ষণ করছেন ব্যবসায়ীরা।
রোজ হ্যাভেন ফুল বাগানের সত্বাধিকারী সুজন মিয়া জানান, ৪৮ শতক জমিতে চাষকৃত গোলাপ বিশেষ সময়ে চাহিদা মেটাতে কুঁড়ি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ ক্যাপ পরিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে ফুলটি বড় হবে কিন্তু ফুটে নষ্ট হওয়ার সুযোগ পাবে না। এভাবে বাগানে এক মাস গোলাপ সংরক্ষণ করা যায় বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, এক ধরনের টিস্যু কাগজের তৈরি এই ক্যাপ যশোর জেলা থেকে আনা হয়। সেই ক্যাপ ব্যবহার করা হয়। কখনও কখনও রাবার ব্যবহার করা হয় সেই কাজে। সুজন বলেন, এমনি সময়ে বাজারে প্রতিটি গোলাপ পাঁচ টাকায় বিক্রি হলেও বাগান থেকে ফুল ব্যবসায়ীরা পাইকারি দামে প্রতি ১০০ গোলাপ ২০০ টাকায় কেনেন। অর্থাৎ প্রতি গোলাপের পাইকারী দাম ২ টাকা। কিন্তু কিছু সময় বিশেষ করে বিশ^ ভালোবাসা দিবসে খুচরা হিসেবে প্রতিটি গোলাপ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। পাইকারী ২০ থেকে ৩০ টাকা করে প্রতিটি গোলাপ কিনেন ফুল ব্যবসায়ীরা। এজন্য বিশেষ দিবস ঘিরে অধিক মুনাফার জন্য গোলাপ সংরক্ষন করা হয় বলে জানান তিনি।
রংপুর পুলিশ লাইনসংলগ্ন ফুল কর্নারের স্বত্বাধিকারী হাফিজুল আলম বাবু জানান, ফুলের দোকানগুলোতে বর্তমানে সব ধরনের ফুল পাওয়া গেলেও গোলাপ মিলছে না। রংপুরে বেশ কয়েকটি গোলাপের বাগান থাকলেও ভালোবাসা দিবসকে উপলক্ষ করে মালিকরা আগে থেকেই ফুল উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে। দিবসের দুই দিন আগে থেকে গোলাপ পাওয়া গেলেও অনেক বেশি দামে কিনতে হবে বলে জানান তিনি।
একই কথা জানান ফুলঘর অর্কিডের মালিক মিথুন মিয়া। তিনি বলেন বছরের অন্যান্য সময় বিশেষ প্রয়োজনে ক্রেতারা প্রতিটি গোলাপ পাঁচ টাকায় কিনতে পারে। কিন্তু ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ৫০ টাকার নিচে গোলাপ মিলবে না। কখনো কখনো এর দাম ওঠে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। সবমিলিয়ে বলা যায়, ‘হে গোলাপ ভালোবাসা দিবসের আগে তুমি ফুটিও না।’‘ভালোবাসা দিবসের আগে তোমার ফুটতে মানা’।
