পরপর দুটি চলচ্চিত্র আলোচিত হওয়ায় শরিফুল রাজের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন নির্মাতারা। নিজেদের সিনেমায় নিতে চাইছেন তাকে। এরইমধ্যে শোনা যায়, নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হতে রাজ নাকি ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দাবি করছেন।
কয়েকদিন আগে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন রাজ। তিনি যে মোটা অংক পারিশ্রমিক হিসাবে চান সেটা বোঝা গিয়েছিল তার বক্তব্যে। এরপরই বিতর্কের মুখে পড়েন রাজ। ট্রলও করা হয় তাকে নিয়ে।
বিতর্কিত হওয়ার পরপরই রাজ তার ৩০ লাখ টকা পারিশ্রমিকের বিষয়টি গুজব বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে টাকার অংক অস্বীকার করলেও আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিকই যে তিনি দাবি করছেন তা স্পষ্ট হয়ে উঠল তার বক্তব্যে।
রাজ বলেন, ‘আচ্ছা, একটা বড় বাজেটের ছবিতে একজন শিল্পীকে যদি প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করতে হয়, ওই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো ছবিতে কাজ করতে পারবেন না বলা হলে, তাহলে ছবির বাজেট অনুযায়ী ওই শিল্পী যদি এই পারিশ্রমিক চেয়েই থাকেন, ওই শিল্পীর অপরাধ কী?
তার মতে, শিল্পীদের শুধুই শুটিংই কাজ নয়, এর বাইরে অনেক কিছুই মেইনটেন করতে হয়। শিল্পীদের জীবনের বাস্তবতায় অনেক খরচের ব্যাপার আছে। সুতরাং ভালো সিনেমা, অভিনয়ের বাইরেও পারিশ্রমিকের বিষয়টিও বড় ব্যাপার।’
রাজ আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে এখন বলা হচ্ছে, সিনেমায় দর্শক ফিরেছেন, ভালো সিনেমা তৈরি হচ্ছে। প্রযোজক লাভের মুখ দেখছেন। তাহলে শিল্পীরও তো পারিশ্রমিক বাড়া উচিত। ঠিক কি না? ২০১৬ সালে আমি সিনেমা শুরু করেছি। ছয় বছর পরে এসে কি সেই আগের পারিশ্রমিকেই কাজ করব? আগের সেই পরিবেশ পরিস্থিতি তো নেই এখন। জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। তাহলে কীভাবে একজন শিল্পী তাঁর নিজের জীবনযাপন ও পরিবারের ব্যয় বহন করবেন।’
৩০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক ধরে একজন শিল্পী হিসেবে তাঁকে নানা জায়গায়, নানা মহলে ছোট করা হচ্ছে, হাস্যরসের পাত্র বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন রাজ। বলেন, ‘যদি আজ পারিশ্রমিক বেশি হওয়ার খবরটি বলিউড, টালিউডে ঘটত, তাহলে সেখানকার শিল্পীদের অ্যাপ্রিশিয়েট করা হতো। আর আমাদের এখানে উল্টোটা। শিল্পীদের ছোট করা হয়। দুঃখজনক এটি।’
একটা উদাহরণ টেনে এই নায়ক আরও বলেন, ‘ধরেন, একটি অফিসে একজন কর্মচারী প্রথম বছর ৫০ হাজার টাকা বেতনে যোগ দিলেন। পাঁচ বছর পরে যদি তা বেড়ে দুই লাখ হয়, তখন কী হয়? ওই মানুষটিকে সবাই সমাদর করেন। আরও উৎসাহ দেন। আর অভিনয়শিল্পীদের বেলায় আমাদের এখানে পারিশ্রমিক বাড়ালে তাঁদের জন্য তালি নয়, গালি। তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা তৈরি হয়, ইস্যু বানানো হয়’।
