Home দেশের খবর চুলের কাটিং নিয়ে বিজ্ঞপ্তি : ক্ষমা চেয়ে নির্দেশনা প্রত্যাহার করলেন চেয়ারম্যান

চুলের কাটিং নিয়ে বিজ্ঞপ্তি : ক্ষমা চেয়ে নির্দেশনা প্রত্যাহার করলেন চেয়ারম্যান

0
217

নজর২৪ ডেস্ক- ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি সেলুনে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশ ছাড়া চুল কাটলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে- মর্মে নোটিশ দেওয়া হয়।

 

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ হাটবাজারে সমালোচনা শুরু হলে ক্ষমা চেয়ে ওই নোটিশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার।

 

জানা গেছে, গত সোমবার (২৫ অক্টোবর) জাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদার চুল কাটার নির্দেশনা-সম্বলিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইউনিয়নের সব জায়গায় দিয়ে দেন। এমন বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ করায় এক কিশোরকে মার ধরের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের ছেলে তুষারের বিরুদ্ধে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এতদ্বারা জানানো যাচ্ছে যে, ১৪ নং জাহানপুর ইউনিয়নের সকল সেলুন দোকান মালিক ও কারিগরদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে সুন্নতি কাটিং, ডিফেন্স/আর্মি কাটিং ব্যাতীত অন্য কোনো কাটিং দেওয়া হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নোটিশের নিচে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন হাওলাদারের সিল, সই ও মোবাইল নম্বর।

 

এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে, অফলাইনে শুরু হয় আলোচনা। এমন নিয়মের প্রতিবাদ করায় এক কিশোরকে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের ছেলে তুষারের বিরুদ্ধে।

 

এরপর বুধবার বিকেলে নিজের ভুল স্বীকার করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন নাজিম।

 

তিনি বলেন, ‘ইয়াং ছেলেদের চুলের স্টাইল ও কালার করার বিষয়ে স্থানীয় মুরব্বিরা আমার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন। আমি তাদের কয়েকজনকে চুল কাটার বিষয়ে বুঝিয়েছি কিন্তু তারা না মানায় স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলে ২৫ অক্টোবর নোটিশ জারি করি।

 

‘তবে এটা যে আইন বহির্ভূত তা আমার জানা ছিল না। যখন জানলাম তখন ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার দিয়ে প্রতিটা নোটিশ তুলে নিয়েছি। আমার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে ক্ষমাও চেয়েছি।’

 

এক কিশোরকে মার ধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের সঙ্গে স্থানীয় জসিমের ছেলের চুল কাটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি জানতে পেরে অভিভাবক ডেকে মিটমাট করে নিয়েছি।’

 

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান রুহুল বলেন, ‘একজন ইউপি চেয়ারম্যান এরকম নোটিশ জারি করতে পারেন না। তিনি যেটা করেছেন তাতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here