নজর২৪ ডেস্ক- খুব কষ্টের টাকা ভাই, না পেলে আমার অবস্থা খুবই খারাপ হবে। অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। আমি আর কিছুদিনের মধ্যেই টাকাটা পেয়ে যেতাম।
সজীব নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সবার কাছ থেকে টুকটাক ধার করে, সমিতি থেকে টাকা নিয়ে আমি বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু সব তো শেষ হয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) বাসায় র্যাবের অভিযানের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সজীব। সেখানে সজীবের মতো আরও কয়েকশ গ্রাহক অবস্থান করেন। তাদের সবার মধ্যেই এখন পণ্য বা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমাকে দুই দিনের মধ্যে টাকা দেওয়া হবে এমন আশ্বাস পেয়েছি উল্লেখ করে সজীব বলেন, আমি দুই-তিনদিন আগে তার (রাসেল) কাছে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন দুই-তিনদিন পর টাকা পেয়ে যাব।
সজীব বলেন, জানুয়ারি মাসে তিন লাখ টাকার প্রোডাক্ট অর্ডার করেছি। আর কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো আমার একটা কিছু হয়ে যেত। কিন্তু ভাই এখন আমি কী করব?
বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের নিলয় কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংয়ের বাসায় (হাউজ ৫/৫এ, স্যার সৈয়দ রোড) অভিযান চালিয়ে রাসেল দম্পতিকে গ্রেফতার করে র্যাব।
অভিযানের সংবাদ শুনেই রাসেলের বাসার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন গ্রাহকরা। এরপর তারা স্লোগানও দিতে থাকেন। ‘রাসেল ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’- এমন সব স্লোগান দিয়ে রাসেলকে নিয়ে যেতে র্যাব সদস্যদের বাধা দেন তারা। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উপস্থিত থাকা গ্রাহকদের মধ্যে অনেকে বলছেন, ইভ্যালির মালিক দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। সেই বিষয়টি নিয়ে বেশ আন্দোলন করেছি। কিন্তু তখন কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইভ্যালির মালিককে গ্রেপ্তার করেনি। এমনকি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইভ্যালির চুক্তি হতে যাচ্ছিল। তখনও নিশ্চুপ ছিল র্যাব ও পুলিশ। এখন হঠাৎ করে কেন গ্রেপ্তার করা হলো। এখন গ্রাহকদের পাওনা টাকা দেবে কে? গ্রাহকরা কোথায় গিয়ে পাওনা টাকা চেয়ে আবেদন করবেন? এসব বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার।
লিমন মিয়া এক গ্রাহক বলেন, ইতোমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ই-অরেঞ্জের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জেলে রয়েছেন কিন্তু গ্রাহকদের পাওনা টাকা নিয়ে কোনো সমাধান আসনেনি। এখন ইভ্যালির মালিক গ্রেপ্তার হলে আমাদের পাওনা টাকা দেবে কে? লিমনের মতো অনেক গ্রাহক নিজেদের পাওনা টাকা নিয়ে সংশয়ের মধ্যে রয়েছে।
উপস্থিত এক গ্রাহক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি তিন লাখ টাকার চেক পেয়েছি। এখন রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন আমার টাকার কী হবে। আমরা তো এতদিন আশায় ছিলাম যে, টাকা ফেরত পাব। কিন্তু তিনি যদি কারাগারে থাকেন, তাহলে তো আর টাকা ফেরত নাও পাওয়া যেতে পারে। এখন কী করব, কোথায় যাব?





