নজর২৪, ঢাকা- নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেছেন, জীবনে বড় ভুল করেছি ইন্ডাস্ট্রি করে। ইন্ডাস্ট্রি করলে শ্রমিক থাকবে। শ্রমিক থাকলে কাজ হবে। কাজ হলে আগুন লাগতেই পারে। এর দায় কি আমার?
শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি তো আর যেয়ে আগুন লাগিয়ে দেইনি। অথবা আমার কোনো ম্যানেজার আগুন লাগায়নি। শ্রমিকদের অবহেলার কারণেও আগুন লাগতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এখন যারা বিক্ষোভ করছে, তারা কেউ শ্রমিক না। তারা বহিরাগত।’
আগুন লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু নিচের তলায় কার্টুন রাখা ছিল এবং বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল, তাই হয়তো আগুনের এই ভয়াবহতা। নিচের তলার কার্টুন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওপরের তলাগুলোতে বিভিন্ন মেশিন ও যন্ত্রপাতি ছিল। যেহেতু খাবারের আইটেম তৈরি হয়, তাই বহু ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল। সেটা হয়তো আগুনের ব্যাপকতা বাড়িয়েছে।’
মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে যাইনি, তবে আমার লোকজন সেখানে আছে। যারা মারা গেছেন, তারা তো আমারই ছেলে-মেয়ে। আমি খুব ভেঙে পড়েছি।’
অগ্নিকাণ্ডে অধর্শতাধিক শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনাকে বড় দুর্ঘটনা আখ্যা দিয়ে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মালিক-শ্রমিক এক পরিবার। শ্রমিক ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলে না। শ্রমিকরাই প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। কাজেই আমরা হতাহত সব শ্রমিকের পরিবারকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেবো। নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবো। কোনো পরিবারকে বঞ্চিত করবো না।
তিনি বলেন, যে কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটির ইনস্যুরেন্স করা আছে। ভয়ের কারণ নেই। ইনস্যুরেন্সের টাকায় কারখানা দাঁড় করানো যাবে না ঠিক, তবে পরিশ্রম করে আমাদের দাঁড় করাতে হবে।
মোহাম্মদ আবুল হাসেম, ‘দুর্ঘটনায় কারও হাত নেই। আমাদের অনেকগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কোনওটিতে এর আগে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। হতাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমি সমবেদনা জানাই। একই সঙ্গে এই কঠিন বিপদে তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানাই।’
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর আমাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। যাবতীয় চিকিৎসা খরচ প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়ার কথা বলেছি। আগে যেমন এসব শ্রমিকদের পাশে ছিলাম, সামনের দিনগুলোতেও থাকবো। সব ধরনের সহযোগিতা করবো। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা করবো। আশা করছি, আমরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।
মোহাম্মদ আবুল হাসেম আরও বলেন, ‘আমাদের সবগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বৈধ উপায়ে করা। শ্রমিকরা পরিশ্রম করে এসব প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছেন। অনেকেই ভাবছেন, আমি এই কঠিন বিপদে তাদের একা রেখে বিদেশে পালিয়ে যাবো, প্রশ্নই আসে না। এতগুলো প্রতিষ্ঠান ফেলে পালানো যায় না। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এমন বিপদে পড়লাম। এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে সবার সহযোগিতা চাই।’





