Home আলোচিত খাওয়ার যখন ইচ্ছে ছিল, তখন খুব বেশি খাবার পাইনি: চঞ্চল

খাওয়ার যখন ইচ্ছে ছিল, তখন খুব বেশি খাবার পাইনি: চঞ্চল

0
223

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরী। দেশের সীমানা পার হয়ে ওপার বাংলারও জনপ্রিয় মুখ তিনি।

পাবনার কামারহাট গ্রামে বেড়ে ওঠা চঞ্চলের পারিবারিক অবস্থা খুব স্বচ্ছল ছিল না। আট ভাইবোনের বড় পরিবার থেকে বেড়ে উঠেছেন তিনি। বাবা রাধাগোবিন্দ চৌধুরী ছিলেন সেই গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তবে, বাবার চেয়ে পরিবারে মায়ের অবদানের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। তিনি বলেন, আমাদের মা স্বয়ং দুর্গা। তিনিই আমাদের সবাইকে খুব কষ্ট করে বড় করেছেন।

থিয়েটার দিয়েই হাতেখড়ি চঞ্চলের। তবে, অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসাই তাকে এতদূর এনেছে বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ছিলাম থিয়েটারের ব্যাকস্টেজের লোক। কিভাবে যে মঞ্চের সামনে চলে এলাম নিজেও জানি না। আসলে আমার মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানের জন্য যেমন ভালবাসা, অভিনয়ের প্রতিও ভালবাসাটা তেমনই।

অভিনয় দিয়ে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় হলেও ওপার বাংলায় চঞ্চলের জনপ্রিয়তা শুরু হয় বাংলাদেশি ওয়েব সিরিজ় ‘কারাগার’ মুক্তি পাওয়ার পর। ‘কারাগার’ ওয়েব সিরিজে চঞ্চলের অভিনয় মুগ্ধ করে কলকাতার দর্শকদের। এরপর থেকেই, দুই বাংলায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি।

চঞ্চল বলেন, আমি যখন অভিনয় করি, তখন জনপ্রিয়তার কথা মাথায় থাকে না। জনপ্রিয়তা পাব বলে কাজ করি না। অভিনয় একটা সাধনার ব্যাপার। সেই সাধনার মধ্যে দিয়ে তিলে তিলে নিজেকে গড়তে হয়। সবসময় চরিত্র-সৃষ্টির চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়। সেটাই চেষ্টা করি। তার পর প্রশংসা পেলে ভালই লাগে।

ওপার বাংলায় গিয়ে কলকাতার স্ট্রিট ফুড আলাদা নজর কেড়েছে চঞ্চলের। তবে ছোটবেলার মতো খাবারের প্রতি এখন আর তেমন আকর্ষণ নেই বলেও জানান তিনি।

সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখন খাওয়ার ইচ্ছে ছিল, তখন খুব বেশি খাবার পাইনি। সেটা যে কারণেই হোক। দারিদ্রের একটা ব্যাপার থাকে, সামর্থের একটা ব্যাপার থাকে। এখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেটা হয়েছে, সেটা হল অনেক কিছু খেতে চাইলেও খেতে পারি না। আর কতই বা খাব? মুখে স্বাদ লাগলে তিন বেলাই খাই পেট ভরে। আর খাওয়ার ইচ্ছে না থাকলে দু’দিনও না খেয়ে থাকি

তবে কলকাতার স্ট্রিট ফুড আগাগোড়াই তাঁর খুব পছন্দের। ‘‘আর আমি একদম মাছে-ভাতে বাঙালি। মাছ-সব্জি-আলুভাজা আমার খুব প্রিয়। আমার দাদা-বৌদি এসেছেন আমার সঙ্গে। আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন কী খাব। আমি বললাম বাংলা খাবার খাব। তাই খেলাম’’, বললেন চঞ্চল।

চঞ্চলের বাবা এখন নবতিপর। চঞ্চলকে শক্তি জোগান তাঁর মা-বাবা। তাঁর ভাইবোনেরা মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়ি গিয়ে বাবা-মাকে ঢাকার বাড়িতে নিয়ে আসেন। বেশির ভাগই ওঁদের চিকিৎসার জন্যে। ‘‘তবে ওঁরা ঢাকাতে থাকতে চান না। বদ্ধ হাওয়া, চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি থাকতে চান না। তাই আমাদের বাড়িতে সাত-আট দিন থাকার পরই হাঁপিয়ে ওঠেন। আমি এই কলকাতা আসার আগেই তাঁদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলাম,’’ বলছেন চঞ্চল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here