রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা (কনকচাঁপা নামেই পরিচিত) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, যার গান কোটি শ্রোতাকে বেঁধে রেখেছে এক ফ্রেমে। কনকচাঁপা ১৯৬৯ সালে ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করলেও তার পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে। তবে কনকচাঁপা বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। তার বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে কনকচাঁপা তৃতীয়।
চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতিসহ প্রায় সব ধরনের গানে তিনি সমান পারদর্শী। গানের পাশাপাশি তিনি একজন চিত্রশিল্পীও বটে, সময় পেলেই রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন চিত্রকর্ম। তার আঁকাআঁকির চ্যাপ্টারটাও বেশ সমৃদ্ধ। লেখক হিসেবেও কনকচাঁপার সুখ্যাতি রয়েছে।
কনকচাঁপার শিল্পীজীবন আর সংসারজীবন চলেছে হাতে হাত ধরে। ১৯৮৪ সালে তাঁর বিয়ে হয়েছে, সে বছর থেকেই তাঁর শিল্পীজীবন শুরু। বলা হয়, প্রতিটি সফল পুরুষের পেছনে নাকি একজন নারী থাকেন। তবে কনকচাঁপা তাঁর সফল ক্যারিয়ারের কৃতিত্ব দিয়েছেন তাঁর জীবনসঙ্গী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খানকে।
কনকচাঁপার স্বামীর গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুরে। সেখানে সম্প্রতি একটি বাড়ি করেছেন তারা। বাকি জীবন সেই গ্রামেই কাটানোর ইচ্ছে আছে এ শিল্পীর। সম্প্রতি নিজের জন্মদিনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও জানিয়েছেন বিষয়টি। বলেছেন ঢাকা শহরে আর থাকবেন না, এবার শীতে গ্রামে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছে আছে তার।
তিনি বলেন, ‘আমি একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক হতে চাই। কিন্তু সেটা আসলে কতটুকু সম্ভব জানি না। কারণ মধ্যবয়সে চলে এসেছি, কৃষক হওয়া তো শারীরিক সামর্থ্যেরও একটা ব্যাপার। এরপরও সব পরিকল্পনা, কাজ প্রায় শেষ। আমার স্বপ্নের একেবারে দ্বারপ্রান্তে আছি। ঢাকা শহরে আর থাকবোই না।
আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা ঢাকায়; কিন্তু এখানে এখন আমার দম আটকে আসে। প্রকৃতির কাছাকাছি না, একেবারে প্রকৃতির ভেতরে চলে যাচ্ছি। বগুড়ায় আমার শ্বশুরবাড়ি, সেখানেই আমি অনেক আগে কিছু জায়গা কিনেছি। বিভিন্ন গাছপালা লাগিয়েছি, বাড়ি বানানোর কাজও শেষ প্রায়। আশা আছে এই শীতেই ঢাকা ছাড়বো, গ্রামে স্থায়ী হবো।’
তবে যার জন্ম-বেড়ে ওঠা রাজধানীতে, সেই কনকচাঁপা গ্রামের মানুষ বা সমাজের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে পারবেন তো!
এমন প্রশ্নে কনকচাঁপা বলেন, ওই গ্রামের মানুষের সঙ্গে আমি ইতোমধ্যে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছি। তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা করেছি, কথা বলেছি। তারা খুব অবাক হয়েছেন, জানতে চেয়েছেন, ‘আপনি কি আসলেই কনকচাঁপা? নাকি ওনার মতো চেহারা দেখে আপনার বাবা-মা এই নাম রেখেছে!’
তাদের বিস্ময় কাটে না, বলে, কীভাবে সম্ভব! আমি সেখানে গিয়ে ঢেঁকিতে পা দিয়ে চাল গুঁড়া করেছি; সেটা দেখে তারা বিস্মিত হয়ে জানতে চান, কোথায় শিখেছি এসব। আমি তো আমেরিকা থেকে আসিনি। গ্রামে জন্ম না হলেও আমি গ্রাম, দেশের সংস্কৃতি খুব ভালোবাসি। নৌকা চালানো থেকে শুরু করে গোবর দিয়ে ঘর লেপা, সবকিছু পারি আমি।
এদিকে কনকচাঁপার ফেসবুকে গিয়েো পাওয়া গেল একই তথ্য। গ্রামে থাকার ইচ্ছে পোষণ করে গত ২৭ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দেন তিনি। যেখানে গ্রামের রান্না ঘরে রান্না করছিলেন কনকচাঁপা।
হাসিমাখা সেই ছবি শেয়ার করে কনকচাঁপা লেখেন, বগুড়া জমাদার পুকুর গ্রামে আমার একটা বাগান আছে, সেখানে একটা বাড়ি করছি আমি, বলা যায় বাগানবাড়ি। অপূর্ব নিটোল গ্রাম, অনেক পুকুর মাছ চাষে নিয়োজিত। গ্রামবাসী সচ্ছল, ভিক্ষুক একদম নাই। চোরও অনুপস্থিত। একটা সিনেমায় যেমন শান্তিপূর্ণ গ্রাম দেখা যায় তার চেয়েও সুন্দর এই গ্রাম। এখানেই থাকতে চাই একেবারে, কিন্তু নাতীপুতিগুলো কি সেই সুযোগ দেবে?
