ঈদে বড় পর্দায় মুক্তি পেয়ে দাপট দেখাচ্ছে রায়হান রাফী পরিচালিত সিনেমা ‘পরাণ’। যা রীতিমত আলোড়ন তুলেছে ঢাকাই সিনে ইন্ডাস্ট্রিতে। এই ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন শরিফুল রাজ ও বিদ্যা সিনহা মিম। এমন সফলতা চুটিয়ে ভোগ করলেও নির্মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুল করলেন না মিম।
সোমবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘পরাণ’ এর নির্মাতা রায়হান রাফীকে নিয়ে জানিয়েছেন নিজের মুগ্ধতার কথা! মিমের দাবি, নির্মাতা রায়হান রাফি তার ক্যারিয়ারের জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট।
পরিচালক রায়হান রাফিকে ম্যাজিশিয়ান মনে হয় বলেও জানান মিম। তিনি লেখেন, “রাফি ভাইয়ের সঙ্গে সিনেমা শুরুর আগে আমি তাকে সেভাবে চিনতাম না। তার পরিচালিত সিনেমা দেখেছিলাম তবে তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সেভাবে পরিচয় ছিল না। ‘আমি অনেক বিশাল একজন ডিরেক্টর’- এরকম কোনো ভাব রাফি ভাইয়ের মাঝে নেই। শুটিং সেটে সে খুব ফান মুডেই থাকে।”
মিম এখন পর্যন্ত যতজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের পর রায়হান রাফি সেলেব্রিটি ইমেজ ক্যারি করে বলে উল্লেখ করেছেন মিম।
তিনি লেখেন, ‘মানুষ রাফি ভাইয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে চায়, রাফি ভাইয়ের নামেই তাকে চেনে সাধারণ মানুষ। এটা বিশাল একটা ব্যাপার মনে হয় আমার কাছে। কাজের মাধ্যমে এই পরিচয় সে পেয়েছে, আর আমার কাছে মনে হয় এটা তার জন্যও অনেক বড় একটা পাওয়া। হিরো হিরোইনের পাশাপাশি ডিরেক্টরের এই ধরনের ইমেজ পাওয়াটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য আশাব্যঞ্জক ব্যাপার।’
রাফি সম্পর্কে মিম আরও লেখেন, ‘পরাণ সিনেমাতে আমার কিছু কিছু সিকোয়েন্স, যেমন আহ্লাদীপনা- সেগুলো সাধারণ মানুষ অনেক পছন্দ করেছে। এগুলো আসলে রাফি ভাইয়ের অ্যাক্টিং করে দেখিয়ে দেয়া। রাফি ভাই এটা দেখিয়ে না দিলে অনন্যাকে এভাবে পর্দায় হাজির করা আমার জন্য কঠিন হত। শুধু আমার ক্ষেত্রে না, রাজ আর ইয়াশের ক্যারেক্টরকে পর্দায় কীভাবে দেখতে চাচ্ছে রাফি ভাই, সেই ব্যাপারেও তাদের সঙ্গে বিস্তর আলোচনা হত। একজন আর্টিস্টকে খুব সুন্দরভাবে গাইড করতে পারে রাফি ভাই।’
সেটে রাফি উত্তেজিত হয় না, খুব ঠান্ডা মাথার মানুষ বলে জানিয়েছেন মিম। সেটে বেশিরভাগ সময় রাফিকে কুল থাকতেই দেখেছেন অভিনেত্রী।
মিমের মতে, ‘রাফি ভাইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ- সে জানে কীভাবে গল্পটা বলতে হবে। একটা সাধারণ গল্প শুধুমাত্র গল্প বলার ধরনেই অন্যরকম হয়ে যেতে পারে, এর চমৎকার একটি উদাহরণ রায়হান রাফি।’
রায়হান রাফির পরিচালনায় মিমের আরও দুটি সিনেমা রয়েছে। সেগুলো হলো দামাল, যেটি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানান মিম। অন্যটি ইত্তেফাক, যার অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে।
মিম লেখেন, ‘নিঃসন্দেহে রায়হান রাফি ভাই আমার ক্যারিয়ারের জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট এবং অবশ্যই একজন লাকি চার্ম।’
