Home বিনোদন মা রাগ করতেন, আর বাবা ইশারা দিয়ে সাহস দিতেন: ডলি জহুর

মা রাগ করতেন, আর বাবা ইশারা দিয়ে সাহস দিতেন: ডলি জহুর

0
130

এই প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তিনি পর্দার মা হিসেবেই পরিচিত। চলচ্চিত্র কিংবা নাটকে মা হিসেবে সাবলীল অভিনয়ে দিয়ে তিনি অসংখ্য দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। তিনি ডলি জহুর। আজ তার জন্মদিন। ৬৮ বছর বয়সে পা দিলেন এই অভিনেত্রী।

এক সময়ের পর্দায় দাপিয়ে বেড়ানো এই অভিনেত্রীকে এখন খুব একটা দেখা যায় না। পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটান বেশি। একমাত্র ছেলে থাকে অস্ট্রেলিয়াতে সেখানেই বেশি থাকা হয় তার। তবে এবার দেশে থাকায় ঈদের বেশ কিছু নাটকে দেখা গেছে তাকে। এর মধ্যে রয়েছে সাত পর্বের ‘ড্রিম ট্যারেস’, ‘আমার আপনজন’।

নাটকে দেখা গেলেও সিনেমায় নেই ডলি জহুর। অথচ সিনেমার মা হিসেবেই তাকে সবাই চেনেন। কেনো সিনেমায় নেই তিনি? উত্তরে এই অভিনেত্রী জানান, ‘এখন অভিনয় করার মতো তেমন বয়সও নেই। তবে নাটকের শুটিংয়ে অল্প দিন লাগে। সিনেমাতে তো অনেক দিন শিডিউল দিতে হয় তাই করা হয় না।’

ডলি জহুর বলেন, ‘শৈশব থেকেই প্রচুর নাটকে অভিনয় করেছি। তবে সেভাবে রিহার্সাল করা হতো না। স্কুলে অভিনয়ের সময় একটি চিত্রনাট্য হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো।’

যেকোনো চরিত্রের কথা বললে মুহূর্তেই তিনি সেভাবে অভিনয় করে দেখিয়ে দিতেন। অভিনেত্রী মনে করেন, শৈশব থেকে আশপাশের বিভিন্ন পেশার মানুষদের জীবনযাপন কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করতেন বলেই এই দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছিলেন।’

সে সময়ে মেয়েদের জন্য অভিনয়ে আসা কঠিন ছিল। ডলি জহুর কীভাবে পেরেছিলেন? এ প্রসঙ্গে এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, ‘পরিবার থেকে মা চাইতেন না অভিনয় করি। অভিনয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কারণ, তিনি লেখাপড়াকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন। বেশির ভাগ সময়ই মা বলতেন, “এত বড় মেয়ে পড়াশোনা নেই, অভিনয় করতে যায়। এগুলো ঠিক না। পড়াশোনায় মনোযোগী হও।” কিন্তু অন্যান্যরা বেশ সহযোগিতা করতেন। এখনো প্রায়ই মনে পড়ে, মা রাগ করতেন অন্যদিকে বাবা ইশারা দিয়ে সাহস দিতেন। ইশারায় বাবা বোঝানোর চেষ্টা করতেন, কথা বলো না, চুপ থাকো।’

একসময় অভিনয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেন। অভিনয়ে তাঁর ডাক পড়তে থাকে। বাবা চাইতেন মেয়ে মঞ্চ নাটক, নাচ, গান করুক। এ জন্য মায়ের সব রাগ ছিল বাবার ওপর। মায়ের কথা ছিল বাবা তাঁকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলছেন। ডলি জহুর সেই সময়গুলো খুব উপভোগ করতেন।

‘পড়াশোনায় কেমন ছিলেন?’ এমন প্রশ্নে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি স্কুল থেকেই খুব ভালো রেজাল্ট করেছি। এই জন্য সবাই জানতেন আমি নাটক করলেও পড়াশোনায় মনোযোগী। বাবা আমার ভালো লাগাকে গুরত্ব দিতেন।’

যে অভিনয় ও শিল্পের টানে তিনি হয়ে উঠেছেন সবার কাছে প্রিয়, ‘সেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা কীভাবে জন্ম?’ এমন প্রশ্নে ডলি জহুর বলেন, ‘আমি শখে নাচ–গান করেছি। ভালো লাগত। অনেকেই পছন্দ করত, উৎসাহ দিত। এভাবেই একসময় মঞ্চে উঠি। স্বাধীনতার পরে দেশের অনেক জনপ্রিয় গান গাইতে হতো। কোরাস গান করতাম। রেডিওতেও গান করেছি। সেসব রেকর্ডিং করা আছে। ভালো লাগা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান পড়ার সময়ও থিয়েটার করতাম। কিন্তু অভিনয় করব কখনোই ভাবিনি। আমার স্বামী চাকুরি করতেন। তিনি আমার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতেন। আমাকে চাকুরি করতে দিতেন না। তখন আমি মঞ্চে, বেতারে অভিনয় করি। এক সময় টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করি। এভাবেই একসময় মনে হয় অভিনয় আমার জায়গা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here