সিলেটের চলমান বন্যা পরিস্থিতি আগামী দুই থেকে তিন দিন আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া। শুক্রবার (১৭ জুন) বিকালে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি এ তথ্য জানান।
আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১৩টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এ অঞ্চলগুলোতে বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। যার ফলে মানুষের সাধারণ জীবন-যাপন ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, উজানে এখনো ভারি বর্ষণ অব্যাহত আছে। বিশেষ করে উজানের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে অত্যাধিক ভারি বর্ষণের রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টির পানি সিলেট এবং সুনামগঞ্জের ওপর দিয়ে দ্রুত নেমে আসায় সেখানে এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতির অবস্থা আগামী দুই থেকে তিন দিন আরও খারাপ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি বেশি দিন দীর্ঘায়িত হবে না। এ বন্যার স্থায়িত্ব সাত থেকে দশ দিন হতে পারে।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের চেরাপুঞ্জি বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা জুন মাসে ১২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটিও গত ২৭ বছরের মধ্যে তিন দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, চেরাপুঞ্জিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার চারটি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে গেছে। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও বৈদ্যুতিক খুঁটি তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক তলিয়ে গেছে। সারা দেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় পৌনে দুই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানান, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে লাখ লাখ মানুষ। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে সহায়তা করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন।





